মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বাছিরপুর এলাকায় প্রায় ২৮২ শতক জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ১৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করে ভিটেমাটি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। আদালতের বিচারাধীন মামলার তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের পাঁয়তারা চলায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনার বিবরণীতে ভুক্তভোগীরা জানান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো. নূরুল ইসলামের বাবা মৃত আব্দুল হাছিব ১৯৬৩ সালে জিতেন্দ্র কুমার দাস ও বারিন্দ্র কুমার দাসের কাছ থেকে ২৮২ শতক জমি ক্রয় করে ভোগদখল শুরু করেন। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের পর জমিটি ‘শত্রু সম্পত্তি’ তালিকাভুক্ত হলে ১৯৭০ সালে তৎকালীন সরকারের কাছ থেকে তা পুনরায় বৈধভাবে বন্দোবস্ত নিয়ে পরিবারগুলো দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে বসবাস করে আসছে। তবে গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর নিখিল চন্দ্র দাসের ছেলেরা ওই জায়গার মালিকানা দাবি করে চড়াও হন। এ নিয়ে বর্তমানে মৌলভীবাজারের সহকারী জজ আদালত ও যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ২৬ আগস্ট চুনু লাল দাসের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জুড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চুনু দলবলসহ অনধিকার প্রবেশ করে ১৭টি পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালান। স্থানীয় সংসদ সদস্যের মৌখিক নির্দেশ রয়েছে দাবি করে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের ভিটেমাটি ছাড়া করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তারা সুবিচারের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চুনু লাল দাস দাবি করেন, আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন, কাউকে ভয়ভীতি দেখানো হয়নি। জমি দখলের অভিযানে উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চুনু ভিডিও সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকৃতি জানালেও মুঠোফোনে জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুরোধেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু জানান, এলাকায় সাম্প্রদায়িক শান্তি বজায় রাখতে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তিনি বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কোনো সুরাহা না হওয়ায় উভয় পক্ষকে আইনগত পথ অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তির আগে কোনো রকম বলপ্রয়োগ বা রাজনৈতিক প্রভাব না খাটানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
