অনলাইন ডেস্ক: বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রাক্-শিল্পযুগের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করবে-এমন বাস্তবতা মেনে নিয়ে এখন থেকেই এর প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে উষ্ণতা বৃদ্ধির মাত্রা ও সীমা অতিক্রমের সময়কাল যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (২ সেপ্টম্বর) জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বিশ্ব ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে জলবায়ু নীতিতে এখন ‘ওভারশুট’ মোকাবিলাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রতিবেদনের সহ-লেখক ও ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের বিজ্ঞানী রিচার্ড বেটস বলেন, এটি বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার বিষয়। উষ্ণতর বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর প্রস্তুতি নিতে হলেও তাপমাত্রা বৃদ্ধি সীমিত রাখার সুযোগ এখনো রয়েছে।
আরেক সহ-লেখক ডেব্রা রবার্টস বলেন, জলবায়ু শাসনব্যবস্থাকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। তাঁর মতে, ওভারশুট পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমান পরিকল্পনাগুলো যথেষ্ট প্রস্তুত নয়।
২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার চেষ্টা করতে সম্মত হয়েছিল। তবে বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, সেই সীমা শিগগিরই অতিক্রম করতে পারে পৃথিবী।
ইতোমধ্যে ১৮৫০-১৯০০ সময়কালের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রায় ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। গত তিন বছরও ছিল রেকর্ডের সবচেয়ে উষ্ণ বছর। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, তাপমাত্রা আরও বাড়লে চরম আবহাওয়া, বরফস্তর ধস এবং প্রবালপ্রাচীর বিলীন হওয়ার মতো ঝুঁকি বাড়বে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, শতাব্দীর শেষ নাগাদ উষ্ণতা আবার ১.৫ ডিগ্রির নিচে নামানো সম্ভব। ইউএনইপিও জানিয়েছে, এজন্য দ্রুত গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণের ব্যবস্থা বাড়াতে হবে।
তবে কার্বন অপসারণ প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সমালোচনা করেছেন জলবায়ু আন্দোলনকর্মীরা। তাঁদের সতর্কতা, ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত সমাধানের আশায় এখনই জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর পদক্ষেপ বিলম্বিত করা যাবে না।
ইউএনইপির নির্বাহী পরিচালক ইঙ্গার অ্যান্ডারসেন বলেন, ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্য এখনো বহাল রয়েছে; তবে তা অর্জনে জলবায়ু নীতিতে নতুনভাবে ও আরও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
জা.অর্থনীতি/এসআই
