বাংলাদেশের সার্টিফিকেট দিয়ে কি আমেরিকায় চাকরি মিলবে?
ছবি: এআই জেনারেটড

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: উচ্চশিক্ষা কিংবা ইমিগ্রেশন— যেভাবেই হোক না কেন, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে বহু গ্র্যাজুয়েট যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর সবার মনেই প্রধান প্রশ্ন থাকে, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া ডিগ্রির মাধ্যমে সরাসরি কোনো চাকরি পাওয়া সম্ভব কি না।

সত্যটা হলো, সরাসরি চাকরি পাওয়া কঠিন হলেও বাংলাদেশি ডিগ্রির মূল্য একেবারে শূন্য নয়।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ডিগ্রিকে সরাসরি স্বীকৃতি না দিলেও ‘ক্রেডেন্সিয়াল ইভালুয়েশন’ বা ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ রয়েছে। ওয়ার্ল্ড এডুকেশন সার্ভিসেস কিংবা ইসিই-এর মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশি ডিগ্রিকে আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ডে রূপান্তর করা যায়।

৭০০ চাকরির সুযোগ, জাবিতে বসছে জাকসু জব ফেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে এসে মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে চাইলে বাংলাদেশি ব্যাচেলর ডিগ্রিই হবে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। বাংলাদেশের পাবলিক ও প্রথম সারির প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিগুলো আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেশ ভালোভাবেই গ্রহণ করে। উচ্চশিক্ষার এই পথ ধরেই অনেকে আমেরিকান সার্টিফিকেটের মালিক হন এবং ভালো চাকরি পান।

প্রশ্ন হলো, সরাসরি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে কি বাংলাদেশি ডিগ্রি কাজে আসে? আইটি, সফটওয়্যার বা ডেটা অ্যানালিটিক্সের মতো স্কিল-বেইজড ফিল্ডে ডিগ্রির চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও পোর্টফোলিওকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেখানে বাংলাদেশি ডিগ্রি প্রাথমিক যোগ্যতা হিসেবে কাজ করতে পারে।

তবে চিকিৎসা, আইন, ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা টিচিংয়ের মতো পেশায় বাংলাদেশি ডিগ্রি নিয়ে সরাসরি কাজ করা অসম্ভব। এসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় লাইসেন্সিং পরীক্ষা, যেমন চিকিৎসকদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মেডিকেল লাইসেন্সিং পরীক্ষা বা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ার লাইসেন্স পরীক্ষা পাস করতে হয়। অন্যথায় সাধারণ কাজের বাইরে প্রফেশনাল ক্ষেত্রে প্রবেশ করা যায় না।

বিনামূল্যে আইটি প্রশিক্ষণ, কোর্স শেষে চাকরির সুযোগ

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশি ডিগ্রি যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ারের শেষ কথা নয়, বরং একটি শক্ত প্রাথমিক ভিত্তি। এই ডিগ্রিকে কাজে লাগিয়ে ক্রেডিট ইভালুয়েশন, অতিরিক্ত শর্ট কোর্স বা আমেরিকান মাস্টার্স সম্পন্ন করলেই খুলবে স্বপ্নের চাকরির দুয়ার।