অনলাইন ডেস্ক: তিস্তা নদীর ভাঙন, বন্যা ও শুষ্ক মৌসুমের পানির সংকট দীর্ঘদিনের এই তিন সমস্যা সমাধানে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে তিস্তায় পানির ন্যায্য হিস্যার প্রশ্নেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ‘তিস্তা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেও দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি।
তিস্তা উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্ষায় অতিরিক্ত পানির প্রবাহ এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির স্বল্পতা—দুই পরিস্থিতিই এ অঞ্চলের মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ তৈরি করেছে। তাই শুধু নদীভাঙন ঠেকানো নয়, পুরো অববাহিকাকে বিবেচনায় নিয়ে টেকসই ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে।
গঙ্গা চুক্তি প্রসঙ্গে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে যথাসময়ে চুক্তি নবায়নের কাজ চলছে। পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনের মতামত নেওয়া হচ্ছে। তিস্তায় টেকসই সমাধানের পাশাপাশি পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাছ থেকে দেখেছেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অঙ্গীকারবদ্ধ। দ্রুত তিস্তা পাড়ের মানুষের দুর্দশা লাঘবে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রত্যাশা করেন তিনি।
সেমিনারে তিস্তার চ্যালেঞ্জ, টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং পানি সংরক্ষণ ও সেচ উন্নয়ন নিয়ে পৃথক উপস্থাপনা দেন বুয়েট ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষজ্ঞরা। এতে নদী ব্যবস্থাপনায় পরিবেশগত ভারসাম্য, পানি সংরক্ষণ এবং অববাহিকাভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার আজিম উদ্দিন। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত, অধ্যাপক ড. আবুল ফজল এম সালেহ, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
—জা.অর্থনীতি/জেআরটি