অযত্ন-অবহেলায় নোবিপ্রবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ধরে চরম অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে রয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) একমাত্র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ। পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, মাঠজুড়ে অতিরিক্ত লম্বা ঘাস এবং নানা প্রাতিষ্ঠানিক বিশৃঙ্খলার কারণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, পরিচর্যার অভাবে মাঠের অধিকাংশ স্থানেই ঘাস বেড়ে টাখনু ছাড়িয়ে গেছে। অসমান মাঠ ও দীর্ঘ ঘাসের কারণে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলতে গিয়ে খেলোয়াড়দের চোট পাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে সারা বছর ক্রীড়া চর্চার স্থায়ী পরিবেশ নেই; ক্রীড়া কার্যক্রম শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি টুর্নামেন্টেই সীমাবদ্ধ।

শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ চার মাস আগে শুরু হওয়া ‘আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এখনো শেষ না হওয়া। দেড় মাস আগে সেমিফাইনাল সম্পন্ন হলেও শারীরিক শিক্ষা বিভাগ ফাইনাল ম্যাচের সময়সূচি জানাতে পারেনি। এছাড়া সাম্প্রতিক টুর্নামেন্টগুলোতে খেলোয়াড়দের মধ্যে কয়েক দফা হাতাহাতির ঘটনা প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে স্পষ্ট করেছে। অন্যদিকে, প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ক্রিকেট পিচটি পরিচর্যার অভাবে নষ্ট হতে বসেছে। মাঠে সুপেয় পানি কিংবা ড্রেসিংরুমের মতো মৌলিক সুবিধাগুলোও অনুপস্থিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস ক্লাবের সভাপতি জাহেদুল হক জানান, ২০ বছরের পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে উপযুক্ত ইনডোর স্পোর্টস বা জিমনেসিয়াম না থাকা দুঃখজনক। খেলোয়াড়দের জন্য ডায়েট ভাতা, ক্রীড়া বৃত্তি ও ইনজুরি সহায়তার দাবি জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জামাল উদ্দিন জানান, টানা বৃষ্টির কারণে ঘাস কাটার কাজ স্থগিত রাখতে হয়েছে। তবে বৃষ্টি থামলেই এক সপ্তাহের মধ্যে মাঠ প্রস্তুত করে জাঁকজমকপূর্ণভাবে ফাইনাল ম্যাচটি আয়োজন করা হবে। একই সাথে মাঠে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকাটাকেও অন্যতম বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি