কিভাবে মারা গেলেন সাগরিকা? আত্মহত্যা নাকি খুন!
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি: শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে মুন্নি আক্তার সাগরিকা (২০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুক ও পারিবারিক কলহের জেরে তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যা হতে পারে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, হালুয়াঘাটের চরগোরকপুর গ্রামের মমতাজ হোসেনের মেয়ে সাগরিকার সঙ্গে নালিতাবাড়ীর ফকিরপাড়া এলাকার মনির হোসেন ওরফে আবু সামার (৩৫) পোশাক কারখানায় কাজের সূত্রে প্রেম ও বিয়ে হয়। বিয়ের পর সাগরিকা জানতে পারেন, স্বামী আবু সামা পূর্বে আরও তিনটি বিয়ে করেছিলেন এবং তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন। যৌতুক দাবি ও নানা বিষয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো।

গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে আবু সামা ফোন করে সাগরিকার পরিবারকে জানান, তার মেয়ে স্ট্রোক করে মারা গেছেন। খবর পেয়ে স্বজনরা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ঝুলন্ত মরদেহ নিচে নামিয়ে মেঝেতে রাখা অবস্থায় দেখতে পান। পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

সাগরিকার বাবার দাবি, তিনি প্রথম থেকেই হত্যার অভিযোগ করলেও পুলিশ কম্পিউটারে টাইপ করা একটি অপমৃত্যু (ইউডি) সংক্রান্ত ফরমে তার স্বাক্ষর নিয়ে অপমৃত্যুর মামলা নথিবদ্ধ করেছে। প্রতিবেশীরাও জানান, মৃত্যুর আগের দিনও দম্পতির মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়েছিল।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর যদি হত্যার কোনো আলামত বা প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে এটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি