দেশের বিরোধী দল স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

রংপুর প্রতিনিধি: বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, "আমাদের দেশে বিরোধী দল রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তারা আগের মতোই আচরণ করছে। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা যে ভাষায় কথা বলতেন, দেশের বিরোধী দলও আজ সেই ভাষায় কথা বলছে।"

রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা ‘লাভ শেয়ার বিডি’-র অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, "বিরোধী দল কথায় কথায় বলছে কাজ করতে দেবে না, চলতে দেবে না। অথচ আমাদের সরকারের বয়স মাত্র ৪ থেকে ৫ মাস। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। রাতারাতি অলৌকিক পরিবর্তন সম্ভব নয়, আমাদের হাতে কোনো আলাদিনের চেরাগ নেই।"

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার নতুন কোনো তেল-গ্যাসের খনি অনুসন্ধান না করে বাপেক্সকে পঙ্গু করে রেখেছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তেল-গ্যাস কূপ খননের উদ্যোগ নিয়ে দরপত্র আহ্বান করেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশের চার বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হলেও দেশে সরকার তেল-গ্যাসের চরম সংকট হতে দেয়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজ ভাড়া বাড়ার প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে কিছুটা প্রভাব পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, "জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি সরকার দেশ ও সংসদ পরিচালনা করছে। সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমরা জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। কাজ করার সুযোগ না দিয়ে আগেই রাস্তায় নেমে পড়া গণতন্ত্রের ভাষা হতে পারে না।"

লাভ শেয়ার বিডির পরিচালক জাহিদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি এবং রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু। এ ছাড়া রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠান শেষে রংপুর অঞ্চলের ২৫ জন সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তির মাঝে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ২৫টি চা-দোকানের ঘর হস্তান্তর করা হয়।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি