গণভোটের রায় বাস্তবায়ন দাবিতে গণমিছিল-সমাবেশ
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে খাগড়াছড়িতে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে শহরের শাপলা চত্বর থেকে গণমিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শান্তিনগর মোড় হয়ে পুনরায় শাপলা চত্বরে আসে। পরে মাস্টারপাড়া মোড় এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। সেখানে আয়োজিত হয় প্রতিবাদ সমাবেশ।

প্রতিবাদ সমাবেশে খাগড়াছড়ি জেলা জামায়াতের আমির সৈয়দ আব্দুল মোমেন, শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল মান্নান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব সুবোধ চাকমাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে জেলা জামায়াতের আমির সৈয়দ আব্দুল মোমেন বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে যেসব কারণে ফ্যাসিবাদী আচরণের অভিযোগ উঠেছিল, বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে বলে তাদের মনে হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা ও সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটছে এবং এতে মানুষের রক্ত ঝরছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ এবং দলীয় প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসন ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রভাবিত করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, শেখ হাসিনা যেমন মানুষের স্বাধীনতা খর্ব করেছিলেন, একইভাবে বর্তমান সরকারও মানুষের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে।

শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে এবং পড়াশোনা করতে না পারে, এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

গণভোটের প্রসঙ্গে সৈয়দ আব্দুল মোমেন বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে তা অস্বীকার করা হচ্ছে। গণভোটের রায়কে আইনে পরিণত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট সংসদের ভেতরে ও বাইরে থেকে বারবার গণমানুষের রায় বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে সতর্ক করছে।

তিনি শেখ হাসিনাসহ ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তদের উদ্দেশে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে তিনি বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি উপেক্ষা করা হলে জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষ আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। প্রয়োজনে আরেকটি ৫ আগস্টের মতো গণঅভ্যুত্থান ঘটতে পারে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

সমাবেশে বক্তারা জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি