চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পে ২ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন তহবিল গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পের উৎপাদন, রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে ২ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে ট্যানারি স্থাপন ও আধুনিকায়ন, পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে ঋণ দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করেছে। এতে বলা হয়, দেশের গবাদিপশুর চামড়ার পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও যথাযথ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে এ খাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। একই সঙ্গে পরিবেশগত মান নিশ্চিত এবং 'লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি)' সনদ অর্জনে পিছিয়ে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপন, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, রপ্তানি বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে এ তহবিল গঠন করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক এ তহবিলের আওতায় ঋণ বিতরণ করতে পারবে। তবে এ সুবিধা দিতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি করতে হবে।

তহবিলের মেয়াদ হবে তিন বছর এবং এটি আবর্তনযোগ্য (রিভলভিং) তহবিল হিসেবে পরিচালিত হবে।

এ তহবিল থেকে ট্যানারি স্থাপন ও সম্প্রসারণ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয়, কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত চামড়া সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি), পয়োনিষ্কাশন শোধনাগার (এসটিপি), কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি স্থাপন, এলডব্লিউজি সনদ অর্জনের ব্যয় এবং চামড়া শিল্পের কাঁচামাল ও আনুষঙ্গিক উপকরণ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে অর্থায়ন করা যাবে।

এ ছাড়া কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য কোনো পুনঃঅর্থায়ন বা বিশেষ তহবিল থেকে চলমান ঋণ সুবিধা থাকলে এ তহবিল থেকে নতুন করে অর্থায়নের সুযোগ থাকবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পকে পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করার পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

—জা.অর্থনীতি/আইবিএম