ইসলাম ডেস্ক: আজকের ডিজিটাল যুগে তরুণ প্রজন্ম যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রিল আর শর্টসের দুনিয়ায় বুঁদ হয়ে আছে, তখন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা ইউটিউবের স্ক্রল ডাউন করলেই ভেসে ওঠে রুমাল পরা, মৃদু হাসিমুখের এক গাম্ভীর্যপূর্ণ অবয়ব। তিনি আর কেউ নন, বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ইসলামিক স্কলার এবং জিম্বাবুয়ের গ্র্যান্ড মুফতি ইসমাইল মেঙ্ক। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি তরুণ যেখানে পপ কালচার আর ইনফ্লুয়েন্সারদের পেছনে ছুটছে, সেখানে ধর্মীয় জ্ঞান, রসবোধ আর আধুনিক মনস্তত্ত্বের মিশেলে মুফতি মেঙ্ক হয়ে উঠেছেন তরুণদের জীবনের এক অনন্য বাতিঘর।
১৯৭৫ সালে জিম্বাবুয়ের হারারেতে জন্ম নেওয়া ইসমাইল মেঙ্ক শৈশব থেকেই ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। বাবার তত্ত্বাবধানে মাত্র ১২ বছর বয়সে পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি সেন্ট জোনস কলেজের হয়ে রাগবি, ক্রিকেট ও সাঁতারেও পারদর্শিতা দেখান। পরবর্তীতে মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরিয়াহ আইনে স্নাতক এবং ভারতের গুজরাট থেকে হানাফি ফিকহের ওপর উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। ২০০০ সালে স্বদেশে ফিরে মাত্র ২৫ বছর বয়সে তিনি জিম্বাবুয়ের ফতোয়া ও নির্দেশনা বিভাগের প্রধান তথা গ্র্যান্ড মুফতি নিযুক্ত হন।
মুফতি মেঙ্কের বক্তব্যের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর উপস্থাপনা শৈলী। তিনি প্রাচিন নিয়মের বাইরে গিয়ে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ইংরেজি, মৃদু রসবোধ এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যা (যেমন: মানসিক চাপ, হতাশা, সম্পর্ক) নিয়ে কথা বলেন। জর্ডানের রয়্যাল ইসলামিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টারের তথ্যমতে, তিনি বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ প্রভাবশালী মুসলিমের অন্যতম। ফেসবুক, এক্স (টুইটার) ও ইউটিউব মিলিয়ে তার অনুসারীর সংখ্যা কোটির ঘরে, যার সিংহভাগই আধুনিক তরুণ প্রজন্ম।
বিশ্বমঞ্চে শান্তির দূত হিসেবে পরিচিত মুফতি মেঙ্ক সবসময় উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার। আইএসআইএস কিংবা বোকো হারামের মতো চরমপন্থী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে কেউ মুসলিম দাবি করতে পারে না। তিনি তরুণদের সহিংস ভিডিও গেম ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান এবং মুসলিমদের পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বন্ধ করে সম্প্রীতির বার্তা ছড়ানোর পরামর্শ দেন।
যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, ভারতসহ বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশে আন্তর্জাতিক সফর করা এই স্কলারের আরেকটি অনন্য দিক হলো, তিনি তাঁর কোনো লেকচার, অডিও-ভিডিও বা অ্যাপের জন্য কোনো প্রকার পারিশ্রমিক বা রয়্যালটি নেন না। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তিনি এই দ্বীনি দাওয়াতের কাজ করে যাচ্ছেন।
ডিজিটাল দুনিয়ার ঝকঝকে আলোতেও তরুণদের মনস্তত্ত্বকে বুঝে তাদের সঠিক ও শান্তিপূর্ণ পথ দেখানোই মুফতি মেঙ্ককে করে তুলেছে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য এক আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক।
জা. অর্থনীতি/ উমার