কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জে বেকারত্ব দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা পোলট্রি খাত এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে। জেলায় নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে গড়ে ওঠা প্রায় ৫ হাজার খামারের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল ৯ থেকে ১০ হাজার মানুষ। তবে উৎপাদন ব্যয় লাগামহীনভাবে বাড়লেও ডিম ও মুরগির বাজারদর কমে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন জেলার হাজারো প্রান্তিক খামারি। লোকসান গুনতে গুনতে ইতিমধ্যে অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে, আর বাকিগুলো টিকে থাকার লড়াই করছে।
খামারিদের অভিযোগ- খাদ্য, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও শ্রমিকের মজুরি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়লেও ডিম ও মুরগির দাম সেই অনুপাতে অনেক কম। বাজিতপুরের খামারি সালাহউদ্দিন জানান, বর্তমানে প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ সাড়ে ৮ থেকে ৯ টাকা হলেও বাজারে তা বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র সাড়ে ৬ টাকায়। ফলে ডিম বিক্রি করে মুরগির খাবারের টাকাই উঠছে না। অনেকেই ঋণ নিয়ে কোনোমতে খামার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
সবচেয়ে বেশি খামারসমৃদ্ধ কুলিয়ারচর, বাজিতপুর ও কটিয়াদী উপজেলার প্রান্তিক খামারিদের দাবি—কয়েকটি বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ঢাকার তেজগাঁওয়ের সিন্ডিকেট কোল্ড স্টোরেজে ডিম মজুত রেখে ইচ্ছেমতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এই মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের কারণে সাধারণ খামারিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের বাঁচাতে করপোরেট কোম্পানিগুলোর বাণিজ্যিক উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ এবং ডিমের উৎপাদন ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন জেলা পোল্ট্রি ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন মান্নান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চন্দ্র শেখর সাহা। সম্প্রতি এসব দাবিতে খামারিরা মহাসড়কে ডিম ফেলে প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, “মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সরাসরি বাজার নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের পক্ষে কঠিন। তবে খামারিদের সমস্যাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। ভোক্তা ও খামারি—উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। মাঠপর্যায়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি সংগ্রহ করে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”
—জা. অর্থনীতি/এলএটি