কী আছে সুরা বাকারার ২৯ নম্বর আয়াতে, কেনো আমল করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী?
ছবি: সংগৃহীত

ইসলাম ডেস্ক: পরিবেশই মানুষের অস্তিত্ব। সৃষ্টির ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রকৃতির সুরক্ষায় পবিত্র কোরআনের কালজয়ী নির্দেশনাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার এক অনন্য আহ্বান এসেছে দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে।

রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির এক চমৎকার মেলবন্ধন তুলে ধরেন। তিনি ইকো সিস্টেমের সাথে মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে পবিত্র কোরআনের সুরা আল-বাকারার ২৯ নম্বর আয়াতের প্রতি আমল করার তাগিদ দেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারার ২৯ নম্বর আয়াতের একাংশ উদ্ধৃত করেন, যেখানে মহান আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, তিনিই সেই সত্তা, যিনি পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সব তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন।’

এই আয়াতের গভীরতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে এমন এক সাধারণ ও ব্যাপক অনুগ্রহের বর্ণনা দেয়া হয়েছে, যা শুধু মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র প্রাণিজগত সমভাবে এর দ্বারা উপকৃত। এ জগতে মানুষ যত অনুগ্রহই লাভ করেছে বা করতে পারে সংক্ষেপে তা এই একটি শব্দের মাধ্যমে ব্যক্ত করা হয়েছে। কেননা, বসবাস ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় উপকরণ এ মাটি থেকেই উৎপন্ন ও সংগৃহীত হয়ে থাকে।

মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্বের কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের কল্যাণ। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে এই সত্যটিই স্পষ্ট করেছেন যে—আমাদের চারপাশের নদী-নালা, গাছপালা, কীটপতঙ্গ, বন্য ও গৃহপালিত প্রাণীসহ সামগ্রিক পরিবেশ মানুষের উপকারের জন্যই নিয়োজিত।

তবে ইসলামের মূল দর্শন অনুযায়ী, এই উপকার ভোগ করার অধিকারের সাথে জড়িয়ে আছে এক বিশাল 'দায়বদ্ধতা'। আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীর প্রতিনিধি বা খলিফা হিসেবে পাঠিয়েছেন। ফলে সৃষ্টির উপাদানগুলো নির্বিচারে ধ্বংস করার অধিকার মানুষের নেই। প্রধানমন্ত্রী যথার্থই উল্লেখ করেছেন যে, যদি আমরা প্রকৃতির এই নেয়ামতগুলো থেকে দীর্ঘমেয়াদে উপকার পেতে চাই, তবে মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই দায়িত্বশীল হতে হবে এবং প্রতিটি সৃষ্টির যথাযথ যত্ন ও পরিচর্যা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান যুগের বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষের প্রসঙ্গ টেনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছেন। আজ বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, পরিবেশের ইকো সিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে মানুষের অস্তিত্বই হুমকিতে পড়বে। অর্থাৎ, চৌদ্দশত বছর আগে কোরআনে যে সৃষ্টির সুষম বণ্টনের কথা বলা হয়েছে, আজকের আধুনিক বিজ্ঞান ও পরিবেশবিদ্যা তারই প্রতিধ্বনি করছে। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন ও বিকাশের ওপরই মানবসমাজের নিরাপদে বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

সুরা বাকারার ২৯ নম্বর আয়াতের মর্মার্থ বুকে ধারণ করে প্রকৃতির যত্ন নেওয়া এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

জা. অর্থনীতি/ উমার