অনলাইন ডেস্ক: মাত্র তিন ঘণ্টার টানা ভারি বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বিস্তীর্ণ এলাকা। সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের ফলে নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। অনেককে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে, আবার কেউ নৌকায় করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ এবং কুমিল্লা সরকারি কলেজ কেন্দ্রের আশপাশে জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীদের ভেজা কাপড়েই পরীক্ষায় অংশ নিতে দেখা যায়।
কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের প্রধান কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র তিন ঘণ্টায় হয়েছে ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিনভর আরও ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে জলাবদ্ধতা বাড়তে পারে।
পরীক্ষার্থীকে নিয়ে কেন্দ্রে আসা অভিভাবক আবদুস সালাম বলেন, রাস্তায় কোনো যানবাহন না থাকায় কোমরসমান পানি পেরিয়ে মেয়েকে পরীক্ষাকেন্দ্রে আনতে হয়েছে। ভেজা শরীরে দীর্ঘ সময় পরীক্ষা দিতে হবে-এ নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুকে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করে পরীক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিতে দেখা যায়। জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।
টানা বৃষ্টিতে জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশ লাইনস, রেসকোর্স, চর্থা, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, গোবিন্দপুর, মুরাদপুর ও ছায়াবিতান এলাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। ড্রেন উপচে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সুযোগে নগরীতে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
জা.অর্থনীতি/এসআই