ঝিনাইদহে কর্মসংস্থানের অভাবে বাড়ছে অপরাধ ও আত্মহত্যা
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ঝিনাইদহ জেলা এখন এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির এই জনপদে নেই কোনো বড় শিল্প-কারখানা কিংবা কর্মসংস্থানের উল্লেখযোগ্য সুযোগ। কর্মসংস্থানের এই তীব্র হাহাকার জেলার শিক্ষিত ও অর্ধ-শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মকে ঠেলে দিচ্ছে এক ভয়াবহ অন্ধকারের দিকে, যার জেরে জেলাজুড়ে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা ও আত্মহত্যা।

ঝিনাইদহের ছয়টি উপজেলার কোথাও বড় কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। উদ্যোক্তাদের অভাব আর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার সংকটে নতুন কোনো কল-কারখানা না থাকায় কর্মক্ষম হাজার হাজার মানুষ আজ বেকার। স্থানীয় তরুণরা পড়াশোনা শেষ করে চাকরির সন্ধানে দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও কাঙ্ক্ষিত সুযোগ না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, বেকারত্বের জ্বালা অসহনীয় হয়ে ওঠায় যুবসমাজের একটি বড় অংশ অলস সময় আর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা থেকে মাদকের মরণনেশায় জড়িয়ে পড়ছে, যা ভেঙে দিচ্ছে পারিবারিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা। একই সাথে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে ও মাদকের টাকা জোগাতে অনেকেই চুরি, ছিনতাইসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে পা বাড়াচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা ও তীব্র হতাশার কারণে ঝিনাইদহে আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবারের চাহিদা মেটাতে না পেরে কিংবা দীর্ঘদিনের বেকারত্বের গ্লানি সইতে না পেরে অনেক তরুণ-যুবক আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অপরাধ ও মাদক নির্মূলে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন প্রতিটি কর্মক্ষম যুবকের হাতে কাজ তুলে দেওয়া। জেলার ছয়টি উপজেলার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন এখন সময়ের দাবি। এখনই শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা না হলে অদূর ভবিষ্যতে এই জেলা এক ভয়াবহ সামাজিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি