ধর্ম ডেস্ক: প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাস অবস্থা! সারা দিনের ক্লান্তি শেষে বিছানায় গা লাগিয়ে দেওয়ার সময় অনেকেই একটু বাড়তি আরামের জন্য খালি গায়ে বা সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে ঘুমাতে পছন্দ করেন। কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে আপনার মনে কি কখনো প্রশ্ন জেগেছে, ইসলামে এভাবে ঘুমানোর বিধান আসলে কী? এটি কি জায়েজ, নাকি সম্পূর্ণ নিষেধ? চলুন, আজকের আয়োজনে জেনে নিই কুরআন-হাদিসের আলোকে এর সঠিক উত্তর।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘুমকে মানুষের জন্য বিশ্রামের মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন (সুরা আন-নাবা)। এটি এমন এক নিয়ামত, যা আমাদের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি দূর করে নতুনভাবে কাজ করার শক্তি জোগায়। কিন্তু এই বিশ্রামেরও রয়েছে কিছু নির্দিষ্ট আদব ও শিষ্টাচার।
ইসলামি ফিকহ বা আইন অনুযায়ী, কেউ যদি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও একান্ত ব্যক্তিগত কক্ষে থাকেন, যেখানে অন্য কারও দৃষ্টি পড়ার কোনোই আশঙ্কা নেই, তবে সেখানে গায়ের ওপর চাদর টেনে বা খালি গায়ে ঘুমানো মূলত ‘মুবাহ’ বা জায়েজ। অর্থাৎ, এতে সরাসরি কোনো গুনাহ নেই। তবে শর্ত হলো— এতে যদি ঠান্ডা লেগে বা অন্য কোনোভাবে নিজের শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তবে তা পরিহার করা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে আবশ্যক।
সরাসরি হারাম না হলেও, ইসলামি স্কলাররা এভাবে ঘুমাতে তীব্রভাবে নিরুৎসাহিত করেছেন। এর পেছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি যৌক্তিক ও আধ্যাত্মিক কারণ:
প্রিয় নবী (সা.) কখনো সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে ঘুমিয়েছেন বলে কোনো সহিহ প্রমাণ নেই। বরং তিনি ঘুমানোর আগে ওজু করা এবং শালীন পোশাক পরার শিক্ষা দিয়েছেন।
তিরমিজি শরিফের একটি হাদিস অনুযায়ী, প্রকৃতির ডাক ও স্বামী-স্ত্রীর একান্ত মুহূর্ত ছাড়া রহমতের ফেরেশতারা সবসময় আমাদের সাথেই থাকেন। তাই একান্ত প্রয়োজন ছাড়া অকারণে বিবস্ত্র থাকা তাদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন।
লজ্জাশীলতা ইমানের অঙ্গ: ইসলামে লজ্জাশীলতাকে ইমানের অন্যতম শাখা (সহিহ মুসলিম) বলা হয়েছে। একা থাকলেও আল্লাহর সামনে এবং ফেরেশতাদের প্রতি এই লজ্জাবোধ বজায় রাখা একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
পবিত্র কুরআনের সুরা আয-জুমারে ঘুমকে একপ্রকার মৃত্যুর সাথে তুলনা করা হয়েছে। মানুষ জানে না সে ঘুম থেকে আবার জেগে উঠবে কি না। তাই মৃত্যুর মতো এই সংবেদনশীল সময়ে শালীন ও পবিত্র অবস্থায় থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
গরমে আরামের প্রয়োজন আছে ঠিকই, তবে একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত আরামের পাশাপাশি সুন্নতেরও অনুসরণ করা। তাই সম্পূর্ণ বিবস্ত্র না হয়ে, পাতলা ও আরামদায়ক সুতির পোশাক পরে ঘুমানোই হতে পারে স্বাস্থ্য ও সওয়াব— উভয় দিক থেকেই সেরা সিদ্ধান্ত!
জা.অর্থনীতি/ উমার