ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা, নিহত ১০

অনলাইন ডেস্ক: টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে অন্তত ১৬ হাজার রোহিঙ্গা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ইউএনএইচসিআর জানায়, কক্সবাজার জেলা ও চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা এবং জলাবদ্ধতার ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বহাল রয়েছে।

রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্মের (আরসিপি) ডেইলি ইনসিডেন্টস ড্যাশবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই থেকে ৭ জুলাই সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টি ও ভূমিধসের ঘটনায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫ হাজার ৮১৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৩ হাজার ১৮২ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চার দিনে মোট ১৬০টি দুর্যোগজনিত ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৫২টি ভূমিধস, ১৪টি আকস্মিক বন্যা এবং ৮৩টি ঝড়-সংক্রান্ত ঘটনা রয়েছে। দুর্যোগে ১ হাজার ৬১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র আংশিক এবং ১০টি আশ্রয়কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বর্তমানে বিভিন্ন মানবিক সংস্থা ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার, অস্থায়ী আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসাসহ জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে আগামী দুই দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনায় নতুন করে ভূমিধস ও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে ইউএনএইচসিআর।

এদিকে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ পরিমাণ বৃষ্টিপাত পাহাড়ধস ও স্থানীয় বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

জা.অর্থনীতি/এসআই