সিলেট প্রতিনিধি: লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে সিলেটে আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ৩০ ঘণ্টায় সিলেটে ১২৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ দিন ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে সুরমা-কুশিয়ারাসহ সিলেটের প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩০ ঘণ্টায় মোট ১২৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, “সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি তিন দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এরপর শনিবার থেকে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু সিলেটেই নয়, ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরাসহ উজান এলাকাতেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানির প্রবাহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
দুর্যোগের পূর্বাভাস, বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যান ও করণীয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তারা হলেন— বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান, সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন এবং প্রখ্যাত আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক।
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান— লঘুচাপের কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা আগামী রোববার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। টানা ভারী বর্ষণের ফলে সিলেটের নিচু এলাকা ও পাহাড়ঘেঁষা অঞ্চলে জলাবদ্ধতা, পাহাড়ি ঢল এবং স্থানীয়ভাবে বন্যা দেখা দিতে পারে। বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক হলেও বজ্রসহ বৃষ্টির সময় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচল না করার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি