বিপদসীমার উপরে পানি, স্বল্প মেয়াদী বন্যার পূর্বাভাস
ছবি সংগৃহীত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: উজানের পাহাড়ি ঢল আর ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ইতিমধ্যে দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে, যার ফলে জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে ২৯.৮৩ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। এই পয়েন্টে নদীটির বিপৎসীমা ২৯.৬০ মিটার। ফলে পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে মাত্র ৩ ঘণ্টায় এই পয়েন্টে পানি আরও ৭ সেন্টিমিটার বেড়েছে এবং সেখানে ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পাউবো’র তথ্যমতে, দুধকুমারের পাশাপাশি জেলার অন্যান্য নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে সোমবার সকাল ৯টায় বিপৎসীমার মাত্র ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে (২৯.২৫ মিটার) প্রবাহিত হচ্ছিল। সকাল ৬টার পর থেকে এই পয়েন্টে পানি ২৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে এবং কাউনিয়ায় ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

অন্যান্য নদীর মধ্যে ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ২৫.৪৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচে এবং তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুড়িগ্রাম সদর এলাকায় ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া ও হাতিয়া পয়েন্টে পানি ২ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেও তা এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চিলমারী এলাকায় ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে দুধকুমার নদীর পানি ইতিমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে এবং অন্যান্য নদ-নদীর পানিও ক্রমাগত বাড়ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে কুড়িগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলে একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাউবো নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি