মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে এক পক্ষের বসতবাড়ি ও দোকানে বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সোমবার (২৯ জুন) গভীর রাত ৩টার দিকে লাভলু ও হাসান মুন্সীর সমর্থকরা হঠাৎ করে আখতার হাওলাদারের পক্ষের লোকজনের বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা ভাঙচুর ও লুটপাটের পর পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিলে অন্তত ১০টি বসতঘর ও একটি মুদি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ সময় হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানান, মাদারীপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জ ও নতুন মাদারীপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আখতার হাওলাদারের সাথে লাভলু হাওলাদার ও হাসান মুন্সীর দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। এর আগেও দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।
হামলাকারীরা রান্না ঘর ও গোয়াল ঘরসহ অন্তত ১০টি বসতঘর এবং একটি মুদি দোকানে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে কৃষক খবির হাওলাদার, রানা বেপারী, সিরাজ বেপারী, আবু বেপারীর বসতবাড়ি এবং জেলাল বেপারির মুদি দোকানসহ মোট ১১টি ঘর পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়। এ সময় হামলাকারীরা নগদ টাকা, গরু ও মুদি দোকানের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায় বলে ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন। হামলায় বাধা দিতে গেলে শাকিলা বেগম নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহত শাকিলা বেগম জানান, "প্রতিদিনের মতো স্বপরিবারে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ রাত ৩টার দিকে ভাঙচুরের শব্দ পেয়ে ঘুম থেকে উঠে দেখি হামলাকারীরা আমাদের ঘিরে ফেলেছে। এ সময় তারা আমার স্বামীকে কোপ দিতে গেলে আমি বাঁচাতে যাই, তখন আমার পায়ে কোপ লেগে আমি আহত হই। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।"
উল্লেখ্য, নতুন মাদারীপুর এলাকায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর গত দেড় বছরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত দুইজন খুন হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে অগ্নিসংযোগে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শতাধিক বসতঘর। একাধিক মামলার কারণে দুই পক্ষেরই অনেক লোক বর্তমানে এলাকাছাড়া ও পলাতক রয়েছেন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, "খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং নতুন করে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই মামলা নেওয়া হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
—জা. অর্থনীতি/এলএটি