গোবিপ্রবি প্রতিনিধি: পিএইচডি স্কলারশিপ-সংক্রান্ত অনিয়ম, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তিনি একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়টির জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের (সাদা দল) সদস্য সচিবের দায়িত্বে ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়, গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৩ জুন ২০২৬ তারিখ থেকে তাকে শিক্ষক পদ থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার নেওয়া যাবতীয় অর্থ বিধি মোতাবেক ফেরত দেওয়ারও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ফেলোশিপ ট্রাস্ট ফাতেমা খাতুনের পিএইচডি স্কলারশিপের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করলে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। শিক্ষা ছুটি শেষে তিনি দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলেও পিএইচডি সনদপ্রাপ্তির তারিখ, ডিফেন্স-সংক্রান্ত সুপারভাইজারের প্রত্যয়নপত্র এবং ফেলোশিপ ট্রাস্টের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কোনো নথিপত্র জমা দেননি।
এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিকবার লিখিতভাবে যোগাযোগ করলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরবর্তীতে বিষয়টি তদন্তের জন্য ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি সত্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়।
গত ২৩ জুন ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় ওই সত্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন এবং শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তদন্তে ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে আনীত সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় রিজেন্ট বোর্ডের সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির এই সিদ্ধান্ত নেন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি