বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় ও নার্সের অবহেলায় আনাস নামে ছয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, সুস্থ হয়ে ওঠা শিশুটিকে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন বহির্ভূত ভুল ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই তার মৃত্যু হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. নাসির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

বুধবার (২৪ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের পাইকপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘দি মেঘনা জেনারেল হাসপাতালে’ এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু আনাস হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার গিয়াস উদ্দিন ও সোমা আক্তার দম্পতির ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই দিন আগে হামের উপসর্গ দেখা দিলে শিশুটিকে ডা. তৈয়বুর রহমানের পরামর্শে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসায় তার অবস্থার উন্নতিও হচ্ছিল। বুধবার রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা নার্স সোনিয়া শিশুটিকে একটি ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং হাত-পা বাঁকা করে চিৎকার করতে করতে মারা যায়।

আনাসের বাবা গিয়াস উদ্দিন ও মা সোমা আক্তারের অভিযোগ, কর্তব্যরত নার্স চিকিৎসকের লিখে দেওয়া ইনজেকশনের সাথে আরেকটি অননুমোদিত ইনজেকশন মিশিয়ে পুশ করেন। শিশুটি ছটফট করতে থাকলে নার্সকে ডাক্তার ডাকার অনুরোধ করা হলেও তিনি তা শোনেননি এবং মৃত্যুর পরপরই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার পর হাসপাতালের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও গা-ঢাকা দেয়। এ ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রুমেল উদ্দিন আহমেদ।

অভিযোগের বিষয়ে দি মেঘনা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বাছির মিয়া জানান, শিশুটির মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে এসে অভিযুক্ত নার্সকে ডেকে এনেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তবে ভুল চিকিৎসা বা অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।

পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলেন, হাসপাতালটি পরিদর্শন করা হয়েছে; তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি