শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুর সদর থানায় দায়ের হওয়া নাবালক অপহরণ ও ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির মামলার পলাতক প্রধান আসামি নাজিম মিয়া (২০)-কে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। র্যাব-১৪ এর জামালপুর ক্যাম্পের কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) র্যাব-১৪ এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। উপযুক্ত তথ্য ও বিশেষ সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় র্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল র্যাব-৪ এর সহযোগিতায় ঢাকার আশুলিয়া থানা এলাকায় বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত নাজিম মিয়া শেরপুর সদর উপজেলার পশ্চিম দড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
পারিবারিকে বরাত দিয়ে পুলিশ জানান, গ্রেপ্তারকৃত নাজিম মিয়া ভুক্তভোগী পরিবারের দূরসম্পর্কের আত্মীয়। গত ১ জুন বিকেলে তিনি শেরপুর সদর উপজেলার পশ্চিম দড়িপাড়া এলাকায় বাদী মো. বাননাছের বাড়িতে আসেন। একপর্যায়ে বাননাছের ১২ বছর বয়সী ছেলে নুর ইসলামকে আইসক্রিম কিনে দেওয়ার কথা বলে সুকৌশলে মোটরসাইকেলে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যান। পরে শিশুটি আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরদিন সকালে শিশুর সন্ধান চাইতে গেলে নাজিম মিয়াসহ অন্য অভিযুক্তরা শিশুটিকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না দিলে শিশুসহ তার বাবাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা শেরপুর আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনায় গত ১৭ জুন শেরপুর সদর থানায় পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু হয়। মামলার পর থেকেই প্রধান আসামি নাজিম মিয়া গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
র্যাবের কর্মকর্তারা জানান, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ছায়া তদন্ত ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জোরদার গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকার আশুলিয়ায় তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব আরও জানিয়েছে, অপহৃত নাবালক শিশু নুর ইসলামকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে তাদের বিশেষ অভিযান ও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শেরপুর সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
