বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা জাতীয় ফুটবল দল
ডাকনাম: ‘ড্রাগনস’ এবং ‘জমায়েভি’
কনফেডারেশন: উয়েফা
কোচ: সের্গেই বারবারেজ
ফিফা র্যাংকিং: ৬৫
কোয়ালিফিকেশন যাত্রা
২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের প্লে-অফে ওয়েলসকে সেমিফাইনালে হারিয়ে এবং ফাইনালে চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে রূপকথার মতো মূল পর্বে জায়গা করে নেয় বসনিয়া।
খেলার ধরন
দলটি সাধারণত ৪-৪-২ ফরমেশনে রক্ষণাত্মক ও কাউন্টার-অ্যাটাক নির্ভর ফুটবল খেলে থাকে। তবে উইঙ্গারদের গতি ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আক্রমণেও যথেষ্ট ক্ষুরধার তারা।
তারকা খেলোয়াড়
দলের প্রধান ও অবিসংবাদিত তারকা ৪০ বছর বয়সি স্ট্রাইকার এডিন জেকো। তিনি দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও অধিনায়ক। এছাড়া ডিফেন্ডার সিড কোলাসিনাচ ও ফরোয়ার্ড এরমেদিন ডেমিরোভিচ দলের বড় ভরসা।
উদীয়মান খেলোয়াড়
পিএসভি আইন্দহোভেনের ২১ বছর বয়সি উইঙ্গার এসমির বাজরাকতারেভিচ এবং এরমিন মাহমিচ।
কোচের কৌশল
কোচ বারবারেজ তরুণদের ওপর ভরসা করার পাশাপাশি দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছেন।
শক্তি ও দুর্বলতা
শক্তি: সেট-পিস ও কর্নার থেকে গোল করার ক্ষেত্রে দলটির চমৎকার দক্ষতা আছে। অভিজ্ঞ এডিন জেকোর উপস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। দুর্বলতা: রক্ষণভাগে মাঝে মাঝেই সমন্বয়হীনতা দেখা দেয় এবং হাই-প্রেসিং দলের বিপক্ষে দ্রুত বল হারানোর প্রবণতা রয়েছে।
বিশ্বকাপ ইতিহাস
২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশগ্রহণ করেছিল দলটি। সেবার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও ইরানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের প্রথম জয় পেয়েছিল।
স্মরণীয় মুহূর্ত
২০২৬ বিশ্বকাপের প্লে-অফ ফাইনালে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে অতিরিক্ত সময়ের পর পেনাল্টি শুটআউটে হারানোই বসনিয়ান ফুটবলের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ও রোমাঞ্চকর অর্জন।
সংস্কৃতি ও সমর্থক
বসনিয়ার সমর্থকরা অত্যন্ত আবেগী ও প্রাণোচ্ছল। ‘জমায়েভি’দের প্রতিটি ম্যাচে ‘এলএএস কনিং’ ও গ্যালারিতে লাল-হলুদ-সাদা পতাকার রঙিন উপস্থিতি তাদের সংস্কৃতির প্রধান অংশ।
মজার তথ্য
বিশ্বকাপের মূল স্কোয়াড ঘোষণা করার ক্ষেত্রে যেকোনো দেশের চেয়ে এগিয়ে থেকে সবার আগে ২৬ জনের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছিল বসনিয়া।
সম্ভাব্য ফরমেশন: ৪-৪-২।
গ্রুপ বিশ্লেষণ
২০২৬ বিশ্বকাপের ‘গ্রুপ বি’-তে বসনিয়ার প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে স্বাগতিক কানাডা, কাতার এবং সুইজারল্যান্ড। নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে এখান থেকে নকআউট রাউন্ডে যাওয়ার দারুণ সুযোগ রয়েছে।
ভবিষ্যদ্বাণী
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট (রাউন্ড অফ ১৬) পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
উক্তি
‘ড্রাগস ইন হার্ট, ড্রাগস অন দ্য ফিল্ড’।