পরীমনির সঙ্গে ‘অবৈধ সম্পর্ক’, এডিসি সাকলায়েন বাধ্যতামূলক অবসরে

বিনোদন প্রতিবদেক: ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি কাণ্ডে এবার বড় ‘শাস্তি’ পেলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েন। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। এর আগে, এ নিয়ে বহু আলোচনা-সমালোচনা হলেও এবার সেই ঘটনার জেরে মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বাধ্যতামূলক অবসরের কথা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ডিবির গুলশান বিভাগের এডিসি হিসেবে কর্মরত থাকাকালে মো. গোলাম সাকলায়েন সরকারি দায়িত্বের বাইরে চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে নৈতিকতাবহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন। তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে ‘বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক’, জন্মদিন উদযাপন এবং সরকারি বাসভবনে স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সময় কাটানোর ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। 

এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’র অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। 

পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ তিনি অভিযোগের জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। 

একই বছরের ২৮ মার্চ তার ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয়। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে ১২ ডিসেম্বর দাখিল করা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়। 

এর ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে দ্বিতীয় দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি ১০ মার্চ সেই নোটিশের জবাব দেন। তবে, তদন্ত প্রতিবেদন, জবাব এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গুরুদণ্ড আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

পরে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হলে কমিশন তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের সুপারিশ করে। 

এর ধারাবাহিকতায় নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি চলতি বছরের ১৭ জুন তাকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানসূচক গুরুদণ্ড আরোপে অনুমোদন দেন। 

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(৩)(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’র দায়ে মো. গোলাম সাকলায়েনকে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ সূচক গুরুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। 

—জা. অর্থনীতি/এনএ