ধর্ষক-মাদক ব্যবসায়ীদের তদবির করলে নেতারাও হাজতে: আইনমন্ত্রী
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ধর্ষক বা মাদক ব্যবসায়ীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ হতে পারে না উল্লেখ করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, এদের দমনে যদি কোনো রাজনৈতিক নেতা তদবির করেন, তবে সেই নেতাসহ তাদের একই মামলায় জড়িয়ে হাজতে পাঠানো হবে। নিজের দলের নেতা হলেও রেহাই পাবেন না। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মোঃ নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, জেলা বিএনপি সভাপতি জাহিদুজ্জামান মনা, সিভিল সার্জন ডাঃ কামরুজ্জামান সোহেল, বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ এবং পুলিশ সুপার মিয়া মোঃ আশিস বিন হাসান।

কর্মকর্তাদের কর্মক্ষেত্রে অবহেলার সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টায় অফিস করেন, অথচ অনেক সরকারি কর্মকর্তার মধ্যে এখনও অফিসে আসার অনিহা রয়েছে। কর্মকর্তারা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে রাষ্ট্রে কোনো সংকট থাকবে না। বিগত আমলের মেগা প্রজেক্টের দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, পৌনে ৪ কিলোমিটার রাস্তা করতে প্রথমে ৬০ কোটি ও পরে ২৮০ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছিল। দুর্নীতি পাওয়ায় একনেক বৈঠকে সেটি স্থগিত করা হয়েছে।

সীমান্তে ড্রোন দিয়ে মাদক পাচারের উদ্বেগ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা স্মার্ট হয়ে গেছে। আইনি ফাঁকফোকর গলাতে তারা অল্প পরিমাণে মাদক বহন করে সহজে জামিন পেয়ে যাচ্ছে। তবে এদের দমনে সরকার আরও কঠোর হবে। একই সঙ্গে তিনি কালীগঞ্জের শিশু তাবাসসুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৬০ কিলোওয়াট সৌর বিদ্যুৎ স্থাপন মডেলের প্রশংসা করে মন্ত্রী জানান, চলতি বাজেট অত্যন্ত চিন্তাশীল ও জনকল্যাণের বাজেট। এর আগে মন্ত্রী ঝিনাইদহে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কসাইখানা এবং বিকেলে শৈলকুপায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি