নিজস্ব প্রতিবেদক: কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ, পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার ও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৯ মে) রাতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টা নিজে গাড়ি চালিয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন মৃধা ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকা ঘুরে দেখেন। এসব এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্যের পাশাপাশি আগের জমে থাকা ময়লা রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এই চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনা দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজিরকে তাৎক্ষণিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
সেই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই আকস্মিক পরিদর্শনের পর দুই সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ৩০ ও ৩১ মে (শনিবার ও রোববার) এই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার সব ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনের পথ সচল এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন না এলে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
—জা. অর্থনীতি/এনজে
