আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা কাটানো না গেলে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে বলে যৌথভাবে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।
সম্প্রতি এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থা ৩টির প্রধানরা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মজুদ রেকর্ড গতিতে হ্রাস পাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে চাহিদা শীর্ষে পৌঁছানোর আগেই তেলের বৈশ্বিক মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এর ফলে সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতি, বাজার পরিস্থিতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই রুট বন্ধ থাকায় বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো, যারা উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
যুদ্ধের প্রভাবে শুধু জ্বালানি নয়, বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে কৃষি সারের দামও।
আইএমএফের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা আগেই আভাস দিয়েছিলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটের কারণে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমাতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি। বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের জরুরি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হবে।
এর আগে গত মাসে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও আইইএ মিলে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছিল, যা মূলত সংকটে পড়া দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোকে রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।
—জা. অর্থনীতি/এনজে
