১২ বছরের সুমাইয়ার বাঁচার স্বপ্নে বড় বাধা দরিদ্রতা

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি: দেড় মাসে লেগেছে ১২ ব্যাগ রক্ত। ছোট্ট শরীরে একের পর এক সুচের আঘাত।

হাসপাতালের সাদা বিছানায় শুয়ে থেকেও ১২ বছর বয়সী সুমাইয়া আক্তার সম্পা এখনো বাঁচার স্বপ্ন দেখে। তবে তার এই স্বপ্নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারের চরম দরিদ্রতা। চতুর্থ শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর দিন এখন কাটছে রক্তশূন্যতা, জ্বর, তীব্র ব্যথা আর কেমোথেরাপির আতঙ্ক নিয়ে।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশুটির শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণব্যাধি ব্লাড ক্যান্সার।

সুমাইয়ার বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বেকিকুড়া আমবাগান বাজার গ্রামে। তার বাবা আব্দুল করিম একজন হতদরিদ্র অটোরিকশাচালক।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক দশক আগে জীবিকার তাগিদে সপরিবারে নারায়ণগঞ্জ চলে গিয়েছিলেন সুমাইয়ার বাবা আব্দুল করিম। সেখানে অটোরিকশা চালিয়ে কোনো রকমে টেনেটুনে চলছিল তাদের সংসার। প্রায় দুই মাস আগে হঠাৎ করেই অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়ে তাদের তৃতীয় সন্তান সুমাইয়া। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাকে নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন সুমাইয়া ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত।

বর্তমানে সুমাইয়ার শরীর প্রায়ই রক্তশূন্য হয়ে ফ্যাকাশে হয়ে পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে বারবার ‘বি-পজিটিভ’ (B+) গ্রুপের রক্ত দিতে হচ্ছে। গত দেড় মাসে অন্তত ১২ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে তাকে। সার্বক্ষণিক জ্বর ও অসহ্য ব্যথায় দিন দিন নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে শিশুটি।

দুর্ভাগ্য যেন পরিবারটির পিছুই ছাড়ছে না। বড় মেয়েকে গত বছর বিয়ে দিয়েছেন তারা। মেজো ছেলেটি টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে মানসিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হয়ে গেছে। আর এখন ছোট মেয়ে সুমাইয়া লড়ছে ক্যান্সারের সঙ্গে।

সুমাইয়ার মা রিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমরা গরিব মানুষ, ট্যাকা-পয়সা না থাকায় মেয়েডারে ভালো চিকিৎসা করাইতে পারতেছি না। হঠাৎ অজ্ঞান হইয়া যাওয়ার পর ডাক্তাররা জানাইলো তার ব্লাড ক্যান্সার। এখন শরীর সাদা হইয়া গেলেই রক্ত দেওয়া লাগে। সঠিক চিকিৎসা আর পুষ্টিকর খাবারের অভাবে দিন দিন আমার চোখের সামনে মেয়েটা শেষ হইয়া যাইতেছে।"

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সুমাইয়াকে বাঁচাতে হলে নিয়মিত রক্ত দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত অন্তত ৮ থেকে ৯টি কেমোথেরাপি দিতে হবে। প্রতিটি কেমোথেরাপির পেছনে খরচ হতে পারে প্রায় দেড় লাখ টাকা। সব মিলিয়ে সুমাইয়ার চিকিৎসায় ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা, যা এই অসহায় অটোরিকশাচালক বাবার পক্ষে বহন করা সম্পূর্ণ অসম্ভব।

তাই মরণব্যাধির হাত থেকে ফুটফুটে সন্তানকে বাঁচাতে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের কাছে আর্থিক সাহায্যের আকুল আবেদন জানিয়েছেন অসহায় বাবা-মা।

—জা.অর্থনীতি/এনজে