বিনোদন ডেস্ক: ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়ক জায়েদ খান বরাবরই আলোচনায় থাকতে পছন্দ করেন। দর্শকদের সামনে ডিগবাজি দেওয়া অথবা পোশাক খুলে উল্লাস করা। এসবে তিনি বেশ আনন্দ পান। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিমের ছড়াছড়ি। তবে এবার কোনো স্টেজ শো নয়, বরং নতুন কাজ নিয়ে আলোচনায় তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থাপনা, স্টেজ ব্যস্ত সময় কাটালেও অভিনয় ছাড়েননি জায়েদ খান। বরং, আরও এক ধাপ এগিয়েছেন। এবার স্ক্রিনশেয়ার করেছেন নিউইয়র্ক সিটির বর্তমান মেয়র জোহরান কোয়ামে মামদানির সঙ্গে!
এ নিয়ে চিত্রনায়ক জায়েদ খান শুক্রবার (২২ মে) রাতে নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে কৌতূহলের সৃষ্টি করেন। শেয়ার করা পোস্টারে দেখা যায়, তার কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। পোস্টটি শেয়ার করে জায়েদ লিখেছেন, ‘আসলে কি হচ্ছে এটা? মেয়র জোহরান মামদানি আমার কাঁধে হাত রাখছে? চমৎকার!’
এরপর সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দিনও একই পোস্টার ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেন, ‘সবাই জানেন, কে বড় তারকা...। এবার দেখার পালা কে বড় অভিনেতা...।’
তারপর সেই পোস্ট ঘিরে শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা। অনেকেই জানতে চান, আদৌ কি কোনো কাজের সূত্রে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে দুইজনকে, নাকি এটি কেবল প্রচারণার অংশ?
অবশেষে রহস্যের জট খুলেছেন জায়েদ খান। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনি জানান, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি তার সঙ্গে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন!
জানা গেছে, ‘ইমিগ্রেন্ট ডায়েরিস’ শিরোনামের একটি শর্টফিল্মে একসঙ্গে দেখা যাবে জোহরান মামদানি ও জায়েদ খানকে। প্রবাসীদের সুখ-দুঃখ নিয়ে নির্মিত শর্টফিল্মটির প্রথম এপিসোড প্রকাশ পায় গত মার্চে। এবার আসতে যাচ্ছে সিরিজটির দ্বিতীয় এপিসোড। এটি পরিচালনা করেছেন জন কবির ও সাদ আল আমীন।
সংবাদমাধ্যমকে জায়েদ খান বলেন, ‘জোহরান মামদানি সরাসরি আমার সঙ্গে এই শর্টফিল্মে অভিনয় করেছেন। এই গল্পটা প্রবাসীদের নিয়ে। তাঁর সঙ্গে অভিনয় করতে পারা শুধু আমার একার গর্ব নয়, আমি মনে করি লাল সবুজের বাংলাদেশের পতাকার গর্ব।’
শর্টফিল্মে মামদানির যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে জায়েদ খান বলেন, ‘এটা সম্ভব হয়েছে এখানকার ঠিকানার রুহিন হোসেন ও তাঁর সহধর্মিণী আনুভা শাহীন হোসেনের কারণে। তারাই প্রজেক্টের জন্য মামদানিকে মেইল করেন। সেই সাথে আমার বিস্তারিত তাঁদেরকে জানান। এরপর কিছুদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। তারপর মেয়রের অফিস থেকে তাঁর ডেট দিয়েছিলেন। সেই ডেট অনুযায়ী আমরা শুটিং করি।’
জায়েদ খান আরও বলেন, ‘তাঁর (জোহরান মামদানি) এই প্রজেক্টে যুক্ত হওয়াটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। তিনি পৃথিবীর একজন সেলিব্রেটি মেয়র এবং অত্যন্ত ক্ষমতাধর। তবুও অভিনয় করার সময় তিনি বারবার পরিচালকের কথামতো অভিনয়ের চেষ্টা করছিলেন। কাজটি করে মনে হয়েছে তিনি অত্যন্ত খুশি হয়েছেন।’
আগামী ২৭ মে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ঠিকানার ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে উন্মুক্ত হবে শর্টফিল্মটি।
পোস্টার প্রকাশের পর যে রহস্য তৈরি হয়েছিলো, তার উত্তর এখন স্পষ্ট। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ বা সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; বরং একই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয়ের কারণে এক ফ্রেমে দেখা যায় জায়েদ খান ও জোহরান মামদানিকে।
—জা. অর্থনীতি/এনএ
