মোদীর সভার আগে রহস্যময় ফোন, তারপরই বিস্ফোরক উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের বেঙ্গালুরুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাস্থলের প্রায় তিন কিলোমিটারের মধ্যে বিস্ফোরক উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১০ মে)  শহরের কাগালিপুরা এলাকার কাছে একটি আশ্রম সংলগ্ন স্থান থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রোববার বেঙ্গালুরুতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর একাধিক কর্মসূচি ছিল। তার সফরকে ঘিরে আগে থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী যে পথে অনুষ্ঠানস্থলে যাতায়াত করেন, সেই পথগুলো নিয়মিতভাবে তল্লাশি ও পরীক্ষা করা হয়।

রোববার সকালে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় একটি ফুটপাতের পাশ থেকে দুটি জিলেটিন স্টিক উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরপরই সভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে বম্ব স্কোয়াড ও ফরেনসিক টিম পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।

নিউজ ১৮-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার সকালে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিই প্রথমে থানায় ফোন করে জানিয়েছিলেন যে, এইচএএল বিমানবন্দর ও আর্ট অব লিভিং ফাউন্ডেশন সেন্টারের কাছে বিস্ফোরক রাখা হয়েছে। ওই আর্ট অব লিভিং সেন্টারেই প্রধানমন্ত্রী মোদীর একটি সভা হওয়ার কথা ছিল। খবর পাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত দুই এলাকাতেই সতর্কতা জারি করে।

পরে তল্লাশি চালিয়ে এইচএএল বিমানবন্দর এলাকায় কোনো সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া না গেলেও সভাস্থল থেকে কিছু দূরে বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। এরপর ফোনকারী ব্যক্তিকে কোরামাঙ্গালা এলাকার বাসা থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, কীভাবে বিস্ফোরকগুলো সেখানে পৌঁছেছে, কারা এগুলো বহন করেছে এবং কার নির্দেশে এমন কাজ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার ব্যক্তির বাবা-মাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, অতীতেও বেঙ্গালুরুতে ভিআইপি সফরের সময় ওই ব্যক্তি এ ধরনের ভুয়া হুমকির ফোন করেছিলেন। সে সময় তাকেও আটক করা হয়েছিল। তবে পরে জানা যায়, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। সে কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সফরকে কেন্দ্র করে নতুন করে এমন ঘটনার পর আবারও তাকে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

—জা. অর্থনীতি/এআইই