Print Date & Time : 02 November 2026 Monday 10:34 pm

২ গোল্ড মেডেলসহ আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াডে অভির বিশ্ব রেকর্ড

image

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি: বিশ্বের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াডে দ্রুততম গণিত সমাধানে বিশ্ব রেকর্ড করেছে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর সন্তান খুদে মেধাবী ইয়াসীন তাফসির অভি। দুইটি গোল্ড মেডেল অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ‘চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন’ শিরোপা লাভ করে বিশ্বজয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে সে।

আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াড ফেডারেশনের এডুকেশন পার্টনার ব্রেইন স্কুলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াডে অভির এই অর্জনকে জেলার জন্যও বড় গৌরবের বিষয় হিসেবে দেখছেন পরিবার ও শিক্ষকরা।

অভির সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’ থেকেও দেওয়া হয়েছে বিশেষ সম্মাননা সনদ। ‘ওয়ার্ল্ডস লার্জেস্ট ইন্টারন্যাশনাল অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াড’ এর এবারের আসরে প্রায় ১৪টি দেশের দেড় হাজার প্রতিযোগী অংশ নেয়।

জীবনসংগ্রামের স্বীকৃতি মিললেও থাকার ঘর নেই সুমীর

২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াডের প্রথম পর্বে জুনিয়র লেভেলে অংশ নেয় ইয়াসীন তাফসির অভি। প্রথম পর্বে ‘চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়ন’ শিরোপা অর্জনের পর ২০২৬ সালের ২ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় চূড়ান্ত পর্ব। সেখানে সে অসাধারণ ফলাফল করে অর্জন করে ‘সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন’ শিরোপা। দুই পর্বের সাফল্যে তাকে দেওয়া হয় দুটি গোল্ড মেডেল।

অ্যাবাকাস হচ্ছে গণনার এক বিশেষ পদ্ধতি, যেখানে নির্দিষ্ট কৌশলে দ্রুত হিসাব করার অনুশীলন করা হয়। শিশুদের গণনাদক্ষতা, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। অভি অনলাইনে ‘এডুটিউন’ নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অ্যাবাকাস শেখে। ইতোমধ্যেই জুনিয়র লেভেল শেষ করেছে। বর্তমানে অ্যাডভান্স লেভেলে অ্যাবাকাসের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

পাশাপাশি স্পোকেন ইংলিশেও দক্ষতা অর্জন করছে। পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনে আগ্রহী সে। তার পরিবার জানায়, ছোট থেকেই তার নতুন কিছু শেখার আগ্রহ বেশি।

দুর্গাপুরে চরম দারিদ্র্য হাজং পেলেন নতুন ঘর

ময়মনসিংহ ক্যামব্রিজ মডেল স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র অভি। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ইমরান হাসান রাব্বী ও ঝর্ণা আক্তার দম্পতির ছেলে। বাবা ইমরান হাসান রাব্বী একজন গণমাধ্যমকর্মী।

অভির আন্তর্জাতিক সাফল্যে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়রা বেজায় খুশি। শেরপুরের সন্তান হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই অর্জনে সবাই গর্বিত। এই সাফল্য জেলার অন্য শিশুদেরও মেধা বিকাশে উৎসাহিত করবে।

অভির বাবা ইমরান হাসান রাব্বী বলেন, ছেলের এই অর্জন তার পরিবারকে গর্বিত করেছে। শেরপুরের সন্তান হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্বীকৃতি পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। সে ভবিষ্যতে বড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে চায়।

জুলাইয়ের সেরা কর্মী নির্বাচিতদের সম্মাননা প্রদান

অভির মা ঝর্ণা আক্তার বলেন, ছোট থেকেই অভির যে কোন বিষয়ে শেখার আগ্রহ বেশি। অ্যাবাকাস শেখার প্রতিও তার আগ্রহ ছিল। 

অভির প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্টরা জানান, অ্যাবাকাসে ভালো করতে নিয়মিত অনুশীলন, মনোযোগ ও দ্রুত হিসাব করার সক্ষমতা প্রয়োজন। তার শেখার আগ্রহ ও নিয়মিত অনুশীলনই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য লাভের কারণ। দুই গোল্ড মেডেল, ‘চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন’ শিরোপা অর্জনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ বহন করে।

এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের জন্য আরও সম্মান বয়ে আনবে এই খুদে মেধাবী ছাত্র- এই প্রত্যাশা তার পরিবারের।

—জা. অর্থনীতি/এনজে