Print Date & Time : 27 October 2026 Tuesday 05:46 pm

চীনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ ভারতের, ঢাকার সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

image

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত ও কৌশলগত উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের একটি সংসদীয় কমিটি। সেইসঙ্গে বাংলাদেশের 'সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার' হিসেবে ভারতের অবস্থান সুসংহত করতে ঢাকার সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদার করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এ কমিটি।

প্রবীণ কংগ্রেস এমপি শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তাদের নবম প্রতিবেদনে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। 'ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ বিষয়ক পর্যবেক্ষণ/সুপারিশের ওপর সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ' শীর্ষক প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভারতের সংসদে উত্থাপন করা হয়।

বাংলাদেশে বিদেশি শক্তিগুলোর কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কমিটি। তারা সতর্ক করে বলেছে, 'বন্ধু নয় এমন কোনো দেশ' যদি বাংলাদেশে সামরিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে, তাহলে সেটি ভারতের জন্য গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে।

বাংলাদেশকে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের ধন্যবাদ, ঢাকা সফরের আগ্রহ

ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবকাঠামো, বন্দর সম্প্রসারণ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে। এতে বিশেষভাবে মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প ও লালমনিরহাট বিমানঘাঁটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোংলা বন্দরে ৩৭০ মিলিয়ন ডলারের একটি সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২০২৫ সালের মার্চে চীনের সঙ্গে চুক্তি সই করে বাংলাদেশ।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের সহায়তায় লালমনিরহাট বিমানঘাঁটির উন্নয়ন করা হচ্ছে। অবশ্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডিরেক্টর অভ মিলিটারি অপারেশনস জানিয়েছে, সামরিক ব্যবহারের জন্য এই মুহূর্তে ওই এয়ারস্ট্রিপ আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নেই।

পেকুয়ায় চীনের সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণের বিষয়টিও উল্লেখ করেছে ভারতের সংসদীয় কমিটি। তারা জানিয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের মাত্র দুটি সাবমেরিন থাকলেও এই ঘাঁটিতে আটটি সাবমেরিন রাখার সক্ষমতা রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রতি আস্থা বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র, ভ্রমণ সতর্কতা শিথিল

বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অংশীদারি গড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকারের বিষয়টি স্বীকার করেছে ভারতের ওই সংসদীয় কমিটি। তবে বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোর ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের কথা বিবেচনা করে ভারতের নিজস্ব কৌশলগত ও নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে চীনের সহায়তায় লালমনিরহাট বিমান ঘাঁটির উন্নয়ন এই কমিটির জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়।'

সংসদীয় এই প্যানেল জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদলের সাম্প্রতিক চীন সফরের কথাও উল্লেখ করেছে। কমিটি বলছে, এটি বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে বেইজিংয়ের বিস্তৃত সম্পৃক্ততারই প্রতিফলন।

একইসঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক আরও গভীর করতে উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারতের তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থাকে কাজে লাগানোর সুপারিশ করেছে কমিটি।

তারা বলেছে, মোংলা বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে খুলনা-মোংলা রেলপথের অর্থায়ন ও নির্মাণকাজ ভারতই করেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর দিয়ে ট্রানজিট সুবিধার জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিও সই করেছে ভারত।

সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ অভিবাসন, চোরাচালান, মৌলবাদ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধের মতো চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি আরও বেশি কৌশলগত মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার পাশাপাশি ড্রোন, থার্মাল ক্যামেরা, মোশন সেন্সর ও স্যাটেলাইটভিত্তিক সিস্টেমের মতো উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত অপরাধে ভূমিকা রাখা দুর্বলতাগুলো কমিয়ে আনতে সীমান্ত এলাকায় আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছে ভারতের সংসদীয় কমিটি কমিটি।

—জা.অর্থনীতি/এএইচএ