Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 12:20 am

বিদেশি শিক্ষার্থীদের চাকরির জন্য ১ লাখ ডলার নেবেন ট্রাম্প

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা শেষে চাকরির সুযোগ পেতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ১ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা) ফি চালুর পরিকল্পনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রমুখী হওয়ার প্রবণতা কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে ।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে প্রতিটি পথই ঝুঁকিপূর্ণ

গণমাধ্যমটির প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, এই ফি যুক্ত করা হবে অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি কর্মসূচির সঙ্গে। এই কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করার পর শিক্ষার্থী ভিসাতেই এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ পান। ২০২৪ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ লাখ ১৯ হাজার বিদেশি নাগরিক এই কর্মসূচির আওতায় কর্মরত ছিলেন।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বৈধ অভিবাসন সীমিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি আরও কঠোর হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভরশীল মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও এর নেতিবাচক প্রভাবে পড়তে পারে, কারণ এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা বিপুলসংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দিয়ে থাকে।

আমি কী বিক্রি করব, সেটা কেউ ঠিক করে দেয় না

এর আগে বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য এইচ-১বি ভিসাতেও ১ লাখ ডলার ফি বসানোর উদ্যোগ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে গত সপ্তাহে বোস্টনের একটি আপিল আদালত সেই ফি আদায়ের উদ্যোগ স্থগিত করে দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নতুন প্রস্তাবটি মূলত ওপিটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই প্রস্তুত করা হচ্ছে। এটি কার্যকর হলে প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতের বড় কোম্পানিগুলোর বিদেশি স্নাতক নিয়োগের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।

অস্ত্র সংকটের দাবি প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো নীতিকেই চূড়ান্ত ধরে নেওয়া ঠিক হবে না বলে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। বিভাগটি জানায়, বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সম্ভাব্য নীতি নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা চলছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম বড় আকর্ষণ এই ওপিটি কর্মসূচি। সমর্থকদের মতে, এই সুযোগ না থাকলে বেশিরভাগ বিদেশি শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হবেন এবং সেখানে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগাবেন অন্য দেশের শ্রমবাজারে। অন্যদিকে অভিবাসনবিরোধীদের যুক্তি, ওপিটির মাধ্যমে বিদেশি স্নাতকদের নিয়োগ মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ ও মজুরির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

—জা.অর্থনীতি/আরএস