মক্কা চুক্তিকে পাশ কাটিয়ে ইসরাইলের দ্বারস্থ সৌদি
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের হামলা মোকাবিলায় এবার ইসরাইলের কাছে গোয়েন্দা সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। সম্প্রতি হুতিদের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হওয়ায় এবং সম্ভাব্য আকাশ হামলার আশঙ্কায় পবিত্র নগরী মক্কায় পর্যন্ত জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঠিক এমন এক সংকটময় সময়ে এই খবর প্রকাশ্যে এলো, যখন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে ঐতিহাসিক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ চলছে।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়ালা এবং দ্য জেরুজালেম পোস্ট-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে-যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের মাধ্যমেই মূলত রিয়াদ এই সহায়তা চেয়েছে। হুতিদের আগ্রাসন, কৌশলগত দ্বীপ দখল এবং সৌদি শহর, বিমানঘাঁটি ও তেল অবকাঠামোয় মারাত্মক হামলার পরই এই যোগাযোগ তৈরি হয়। তবে কোনো সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ বা সেনা মোতায়েন নয়, আলোচনা সীমাবদ্ধ রয়েছে কেবল গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও হুমকি শনাক্তকরণে। যদিও দুই দেশের পক্ষ থেকেই বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

এখানেই বড় প্রশ্ন উঠেছে গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে। চুক্তি অনুযায়ী এক দেশের ওপর হামলা মানেই সবার ওপর হামলা। পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো শক্তিশালী জোটসঙ্গী এবং রিয়াদে মোতায়েন করা ৮ হাজার পাকিস্তানি সেনা থাকা সত্ত্বেও কেন রিয়াদ ইসরাইলের দিকে ঝুঁকছে?

বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার সমীকরণ ও সক্ষমতাই এখানে মূল কারণ। লোহিত সাগরের কৌশলগত অবস্থান ও ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় তৈরি ইসরাইলের আধুনিক গোয়েন্দা নজরদারি ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর। অন্যদিকে পাকিস্তান ও তুরস্ক দুই দেশই ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। ফলে ইরান সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া তাদের জন্য রাজনৈতিকভাবে জটিল।

১২ সেপ্টেম্বর হুতিরা পেরিম দ্বীপ দখল করে এবং পেট্রোলাইন পাইপলাইনে ড্রোন হামলা চালায়। একই সাথে হরমুজ প্রণালির পথ সীমিত হয়ে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। একসঙ্গে একাধিক সামরিক ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর সমাধান পেতে মক্কা চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সরিয়ে ইসরাইলি সক্ষমতার ওপর ভরসা করাই রিয়াদের জন্য বাস্তবসম্মত পথ হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে কোটি টাকার মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করলেও বিপদের দিনে ইসরাইলের কাছেই গোয়েন্দা সহায়তা চাইছে সৌদি আরব! হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত আক্রমণ এবং পবিত্র মক্কা নগরীতে বিমান হামলার সতর্কতার মুখে রিয়াদ এখন মার্কিন মধ্যস্থতায় ইসরাইলি গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভরসা করতে বাধ্য হচ্ছে। ৮ হাজার পাকিস্তানি সেনা সৌদিতে অবস্থান করা সত্ত্বেও কেন এই সিদ্ধান্ত? আসল কারণ-ইরানের সাথে পাকিস্তান ও তুরস্ক ঝামেলায় জড়াতে চায় না, আর ইসরাইলের কাছে রয়েছে লোহিত সাগরের সবচেয়ে নির্ভুল নজরদারি প্রযুক্তি।

হুতিরা কৌশলগত পেরিম দ্বীপ দখল করে নিয়েছে এবং সৌদির প্রধান তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা চালিয়ে তেলের বাজার ১০০ ডলারে পৌঁছে দিয়েছে। একের পর এক বিমানঘাঁটি ও তেল অবকাঠামো ধ্বংসের মুখে পড়ায় সৌদি আরব চরম সংকটে। একদিকে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে, অন্যদিকে একের পর এক শহর হুমকির মুখে। সংকট সামাল দিতে মার্কিন সামরিক কমান্ডের মাধ্যমে ইসরাইলের আধুনিক থ্রেট-ডিটেকশন প্রযুক্তির সাহায্য চাইছে রিয়াদ। তবে কি শেষ পর্যন্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণ বদলে যাচ্ছে?  

 

—জা. অর্থনীতি/এলএটি