রাজধানী আজ জামায়াতের বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় সংসদে রবিবার ‘কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী’ সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলের প্রতিবাদে আজ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবে জামায়াতে ইসলামী।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ অতিথি থাকবেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে বিক্ষোভে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখবেন।

এর আগে একই ইস্যুতে রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন বিরোধী দলীয় এমপিরা।

বিল নিয়ে জামায়াতের আপত্তি

সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এ কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে বলে দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বিলটি চলতি অধিবেশনে পাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত আইনটি শরিয়াহ আইনের বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠিয়ে পর্যালোচনা শেষে তাদের সুপারিশ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার জাতীয় সংসদে বিলটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, মানুষের জন্য আল্লাহর নির্ধারিত বিধানের ওপর বিশ্বাসীদের কাছে প্রস্তাবিত আইনটির গ্রহণযোগ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা নিসার ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর আয়াতের উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, প্রথম দুটি আয়াতে উত্তরাধিকার বণ্টনের মূলনীতি এবং পরের দুটি আয়াতে এর পরিণতি সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উইল বা হেবার মাধ্যমে কাউকে সম্পত্তি দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সেই সম্পত্তির মালিকানা ভোগের সুযোগ দিতে হবে। মৃত্যুর পর সম্পত্তি কার্যকরভাবে দেওয়ার বিষয়টি হেবা নয়, বরং ওসিয়তের আওতাভুক্ত। আর ওসিয়তের ক্ষেত্রেও কাকে করা যাবে এবং সর্বোচ্চ কতটুকু সম্পত্তি দেওয়া যাবে, সে বিষয়ে কোরআন-হাদিসে নির্দেশনা রয়েছে।

তার দাবি, প্রস্তাবিত আইনে এসব বিষয় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় শরিয়াহর মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিজের বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি কোনো ফকিহ বা মুফতি নন; কোরআন ও হাদিস থেকে যা বুঝেছেন, সেটিই সংসদে তুলে ধরেছেন।

ডা. শফিকুর রহমানের মতে, আইনটি মানুষের ঈমান-আকিদার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় যথাযথ পর্যালোচনা ছাড়া এটি উপস্থাপন করা হলে সমাজে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রকৃত হকদারদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে মানবিক দিক বিবেচনায় পিতা-মাতার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ