নেপালে বন্যায় নিহত বেড়ে ৯০৩, নিখোঁজ ৪ হাজারের বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩-এ দাঁড়িয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪,২৪৭ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৩২০ জন বিদেশি নাগরিক।

বন্যার পর উদ্ধারকাজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টম্বর) ষষ্ঠ দিনে পড়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাদামাটির পুরু স্তরের নিচে এখনো বহু মরদেহ আটকে রয়েছে। ফলে উদ্ধারকাজ শেষ হতে আরও সময় লাগবে।

বন্যায় নেপালের আটটি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চিতোয়ান থেকে ২৭২টি, নওয়ালপারসি পূর্ব থেকে ২০৭টি, নওয়ালপারসি পশ্চিম থেকে ১৫১টি এবং গোর্খা থেকে ৬২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া নুয়াকোটে ৯৫টি, ধাদিঙে ৫৫টি, তানাহুতে ৩৭টি এবং রাসুয়ায় ২৪টি মরদেহ পাওয়া গেছে।

রাসুয়ায় ভোটেকোশি নদীতে বুধবার সকালে হড়পা বান আসে। পানির সঙ্গে কাদা ও প্রবল স্রোত লোকালয় ভাসিয়ে নিয়ে যায়। স্রোতের তোড়ে বহু মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ভেসে গেছে। এতে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

উদ্ধার করা মরদেহগুলোর অধিকাংশই শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এ কারণে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। নেপালের মর্গগুলোতেও মরদেহ রাখার জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। অস্থায়ীভাবে কিছু ভবনে মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় সরকার মরদেহগুলোর তথ্য সংগ্রহ করে গণকবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে নেপালের সীমান্তবর্তী তিব্বতেও বন্যার তাণ্ডব দেখা দিয়েছে। চীন জানিয়েছে, সেখানে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৪৯ জন ভারতীয় রয়েছেন বলে জানিয়েছে বেইজিং। তাঁরা তামিলনাড়ুর বাসিন্দা বলে মনে করা হচ্ছে।

তামিলনাড়ুর একটি ভ্রমণ সংস্থা জানিয়েছে, তাদের ৪৯ সদস্যের একটি পর্যটক দল কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে গিয়েছিল। বুধবারের ঘটনার পর থেকে দলটির কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

এ ছাড়া কলকাতার ৩২ সদস্যের একটি পর্যটক দলও নেপালে নিখোঁজ রয়েছে। তাঁদের নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মোট ৩৭ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ ভারতীয়দের মধ্যে পর্যটকের পাশাপাশি নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকও রয়েছেন। হড়পা বানের পর নেপালের অনেক সেনাসদস্য ও পুলিশ কর্মকর্তারও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে নেপালের হাসপাতালগুলোতে ভিড় বাড়ছে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ সেখানে এসে জড়ো হচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কাঠমান্ডু।

জা.অর্থনীতি/এসআই