মক্কার তপ্ত প্রান্তর। একটি অসহায় পরিবারকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে মাখজুম গোত্রের নির্যাতকরা। বৃদ্ধ বাবা ইয়াসির, মা সুমাইয়া, তরুণ ছেলে আম্মার। তাদের ‘অপরাধ’— তারা এক আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছেন। গোত্রহীন, প্রভাবহীন, দরিদ্র এই পরিবারকে রক্ষা করার মতো দুনিয়ায় কেউ নেই।
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাশ দিয়ে যাচ্ছেন। তার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে, কিন্তু সেই মুহূর্তে নির্যাতন থামানোর সাধ্য তার নেই। তিনি যা দিতে পারেন তা পৃথিবীর যেকোনো সম্পদের চেয়ে দামি— একটি প্রতিশ্রুতি: ‘সবর করো, হে ইয়াসির পরিবার! তোমাদের প্রতিশ্রুত ঠিকানা জান্নাত।’ (মুস্তাদরাক হাকিম, হাদিস ৫৬৪৬; ইমাম হাকিম বর্ণনাটিকে সহিহ বলেছেন, ইমাম জাহাবি তা সমর্থন করেছেন)
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় এসেছে, প্রকাশ্যে ইসলাম ঘোষণাকারী প্রথম সাতজনের মধ্যে ছিলেন আম্মার ও তাঁর মা সুমাইয়া। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৫০)
বুড়ো বয়সের সেই মা-কে আবু জাহেল ভয় দেখাল, প্রলোভন দিল, নির্যাতন করল। সুমাইয়া অটল। শেষ পর্যন্ত পাষণ্ড আবু জাহেল বর্শা দিয়ে আঘাত করে তাঁকে শহীদ করে দিল। বিখ্যাত তাবেয়ি মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ থেকে ইবনে সাদ বর্ণনা করেছেন: ‘আম্মারের মা সুমাইয়া ইসলামের প্রথম শহীদ।’ (তাবাকাতে ইবনে সাদ—ঐতিহাসিক বর্ণনা)
ভেবে দেখুন—ইসলামের ইতিহাসে শাহাদাতের যে মিছিল, তার প্রথম পতাকাটি আল্লাহ তুলে দিলেন একজন নারীর হাতে। একজন দাসী, একজন বৃদ্ধা, একজন মা। দুনিয়ার চোখে যিনি ছিলেন ‘সবচেয়ে দুর্বল’, আল্লাহর দরবারে তিনিই হলেন অগ্রগামী।
আজ আমরা সামান্য সমালোচনার ভয়ে হিজাব নিয়ে সংকোচ করি, নামাজ নিয়ে লজ্জা পাই, হক কথা বলতে দ্বিধা করি। সুমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা আমাদের প্রশ্ন করে, তোমার ঈমানের মূল্য কত? তাঁর কাছে এর মূল্য ছিল জীবনের চেয়ে বেশি।
হে আল্লাহ! সুমাইয়ার উত্তরসূরি আমাদের মা-বোনদের ঈমানের ওপর অবিচল রাখুন, আর আমাদের সবাইকে দ্বীনের জন্য ত্যাগের তাওফিক দিন। আমিন।
জা.অর্থনীতি
