অনেকেই ডায়মন্ড বা হীরা কিনেন ভবিষ্যতের বিনিয়োগ ভেবে। কিন্তু এখন সেই হীরাই যদি হয়ে যায় দুশ্চিন্তার কারণ তখন কেমন লাগবে? দোকানে গিয়ে কেউ টাকা ফেরত পাচ্ছেন না, আবার কেউ বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রির চেষ্টা করছেন। কিন্তু কেন এমনটা হলো?
ভিয়েতনাম জুড়ে ছড়িয়ে পড়া একটি কথিত হীরা চোরাচালান ও মান জালিয়াতির ঘটনায় অনেক ক্রেতা তাদের কেনা হীরার আসল মূল্য নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন। বাংলাদেশে কি এমন আস্থাহীনতার সঙ্কট সামনে আসতে পারে? চলুন বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি…
ভিয়েতনামের হীরা বাজারে এখন আস্থার সংকট। রাজধানী নয়, বাণিজ্যিক শহর হো চি মিন সিটির ব্যস্ত গয়নার বাজারও যেন হঠাৎ থমকে গেছে। আগে যেখানে ক্রেতারা বিয়ের আংটি বা গয়না কিনতে ভিড় করতেন, এখন সেখানে অনেকেই পুরোনো রসিদ আর সনদ হাতে নিয়ে যাচ্ছেন নিজেদের কেনা হীরা বিক্রি করতে কিংবা তার সত্যতা যাচাই করতে।
তবে এখানেই শেষ নয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, গত দুই বছরে ভারত থেকে সংগ্রহ করে হংকং হয়ে ৩০ হাজারের বেশি হীরা ভিয়েতনামে আনা হয়েছে। এসব হীরার মোট মূল্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডংয়েরও বেশি। বাংলাদেশের টাকায় যা সাত হাজার পঁচিশ মিলিয়ন টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, লাগেজ, জুতা ও পোশাকের ভেতরে লুকিয়ে এসব হীরা দেশে প্রবেশ করানো হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুলিশ বলছে, কিছু রত্ন পরীক্ষাগারে হীরার আসল লেজার খোদাই মুছে ফেলে নতুন করে খোদাই করা হয়েছে। পরে এমন সনদ দেওয়া হয়েছে, যেখানে হীরার মান বাস্তবের তুলনায় বেশি দেখানো হয়েছে। ফলে সেগুলো অনেক বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই হীরা বাজারে কতটা ছড়িয়ে পড়েছে? কর্তৃপক্ষ এখনও তা তদন্ত করছে। এরই মধ্যে অনেক গয়নার দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে দেশের বড় গয়না প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও। তদন্তের আওতায় এসেছে পিএনজে-র একটি রত্ন সনদ প্রদানকারী সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান। যদিও পিএনজে দাবি করেছে, অভিযোগটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়, বরং সাবেক এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তবুও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী এটিকে পুরো শিল্পের জন্য সংকটের মুহূর্ত বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে, আরও একটি বড় প্রতিষ্ঠান এসজেসির খুচরা বিক্রয় নেটওয়ার্কে নিম্নমানের তিন হাজার ৪০০-এর বেশি হীরা সরবরাহের অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এখানেই আসছে বড় মোড়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে স্বাধীন রত্ন সনদ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ গঠন প্রয়োজন। একই সঙ্গে পণ্যের উৎস ও লেবেল যাচাইয়ে আগস্টজুড়ে বিশেষ পরিদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে অনেক ক্রেতা দোকানে বিক্রি করতে না পেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম দামে হীরা বিক্রির চেষ্টা করছেন। আবার কেউ কেউ আরও কম দামে বিক্রির চাপের মুখে সিদ্ধান্ত বদলাচ্ছেন।
এখন সবার নজর, তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এবং নতুন নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার দিকে। এখন দেখার বিষয়, এই পদক্ষেপ ভিয়েতনামের হীরা বাজারে ক্রেতাদের আস্থা কতটা ফিরিয়ে আনতে পারে। আগামী’র সিদ্ধান্তই হয়তোবা বলে দেবে, এই সংকট সাময়িক, নাকি দীর্ঘমেয়াদি আস্থাহীনতার সূচনা।
