ব্যস্ত নাগরিক জীবনে কাঁচাবাজারে গিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে মুরগি কাটানোর সময় এখন আর বেশির ভাগ মানুষের নেই। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে বাজারে এখন চোখের পলকে মেশিনে মুরগি ড্রেসিং করে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই যান্ত্রিক দ্রুততার আড়ালে সাধারণ মানুষের মনে একটি বড় প্রশ্ন—নাড়িভুঁড়ি বের করার আগেই ফুটন্ত গরম পানিতে ডুবিয়ে ড্রেসিং করা এই ফার্মের মুরগি কি আদৌ হালাল ও পবিত্র থাকছে? নাকি মনের অজান্তেই আমরা নাপাক গোশত খাচ্ছি? বর্তমান সময়ে এটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও জরুরি একটি ধর্মীয় ও স্বাস্থ্যগত জিজ্ঞাসা।
ইসলামের মূল শিক্ষা হলো পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন রিজিক অন্বেষণ করা। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন,হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদের যে পবিত্র রিজিক দান করেছি, তা থেকে আহার করো...(সুরা আল-বাকারা: ১৭২)। একই সাথে রাসুলুল্লাহ (সা.) জবাইয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও উত্তম পদ্ধতি বা ইহসান অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন (সহিহ মুসলিম, ১৯৫৫)।
এই ধর্মীয় নির্দেশনার আলোকে বাজারে প্রচলিত ড্রেসিং পদ্ধতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়:
শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বস্তুকে হারাম বা নাপাক বলতে হলে তার পেছনে সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকতে হবে। অমূলক সন্দেহ বা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কোনো খাবারকে হারাম বলা যায় না। আমাদের দেশের বাজারগুলোতে মুরগির পালক নরম করার জন্য খুব অল্প সময়ের (কয়েক সেকেন্ড) জন্য গরম পানিতে ডোবানো হয়।
এত সংক্ষিপ্ত সময়ে নাড়িভুঁড়ির ভেতরের মল বা নাপাকি মাংসের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে এই মুরগি পুরোপুরি পবিত্র ও হালাল থাকে।
যদি মুরগিকে দীর্ঘক্ষণ গরম পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়, যার ফলে ভেতরের নাপাকি গলে মাংসের ভেতর ঢুকে পড়ে এবং মাংসের রং, গন্ধ বা স্বাদে তার স্পষ্ট প্রভাব প্রকাশ পায়—কেবল তখনই সেই গোশত নাপাক ও খাওয়ার অযোগ্য বলে গণ্য হবে।
যদিও অল্প সময় গরম পানিতে ডুবিয়ে ড্রেসিং করা মুরগি খাওয়া নাজায়েজ বা মাকরূহ নয়, তবুও ইসলাম সবসময় অধিকতর পরিচ্ছন্নতা ও সাবধানতাকে উৎসাহিত করে। তাই সবচেয়ে নিরাপদ ও উত্তম পদ্ধতি হলো—ড্রেসিং করার আগেই মুরগির নাড়িভুঁড়ি বের করে নেওয়া।প্রযুক্তির যুগে জীবনযাত্রাকে সহজ করার পাশাপাশি আমাদের ধর্মীয় অনুভূতির পবিত্রতা রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বাজারে প্রচলিত ড্রেসিং করা মুরগি নিয়ে অযথা হীনম্মন্যতা বা কুসংস্কারে ভোগার কোনো কারণ নেই। তবে ভোক্তা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষেরই উচিত সচেতন হওয়া এবং সম্ভব হলে ড্রেসিংয়ের আগেই নাড়িভুঁড়ি পরিষ্কারের নিরাপদ অভ্যাস গড়ে তোলা, যা আমাদের স্বাস্থ্য ও ইমান উভয়কেই সুরক্ষিত রাখবে।
জা.অর্থনীতি/ ওএফএ
