ইসলাম ডেস্ক: সকালের বার্তা থেকে শুরু করে রাতের শেষ টেক্সট—স্মার্টফোনের স্ক্রিনে 'আসসালামু আলাইকুম' লেখাটি এখন আমাদের প্রতিদিনের সঙ্গী। হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার কিংবা টেলিগ্রামের ইনবক্সে ভেসে আসা এই অভিবাদনকে আমরা অনেকেই কেবল একটা সাধারণ আনুষ্ঠানিকতা বা মেসেজ সূচনার মাধ্যম মনে করি। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি, ইনবক্সে আসা এই সালামের উত্তর দেওয়া কি আদৌ আবশ্যক, নাকি সিন করে রেখে দেওয়াটাই যথেষ্ট?
ইসলামে সালাম কেবল একটি সৌজন্যমূলক সম্ভাষণ নয়; এটি অপর মুসলিম ভাইয়ের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও আল্লাহর রহমতের দোয়া। সরাসরি সাক্ষাতের ক্ষেত্রে সালাম দেওয়া সুন্নাত এবং এর উত্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক বা ওয়াজিব—এ বিষয়ে আমরা সবাই অবগত। তবে বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ভার্চুয়াল যোগাযোগও আমাদের বাস্তব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাহলে প্রযুক্তির এই যুগে মেসেজ বা ভয়েস নোটে আসা সালামের বিধান কী? কুরআন ও সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী সালামের মাধ্যম যাই হোক না কেন, সালাম পেলে তার জবাব দেওয়া ওয়াজিব। সুরা আন-নিসার ৮৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, যখন তোমাদের সালাম দেওয়া হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তমভাবে অথবা অনুরূপ জবাব দাও। শরিয়তের ফকিহ ও গবেষকদের মতে, প্রযুক্তির পরিবর্তনের কারণে যোগাযোগের মাধ্যম বদলেছে, কিন্তু ইসলামের মৌলিক শিষ্টাচার অপরিবর্তিত রয়েছে। তাই মেসেজ, ই-মেইল বা ভয়েস নোটে সালাম এলে অবহেলা না করে তার উত্তর দেওয়া একজন মুমিনের দায়িত্ব। ডিজিটাল মাধ্যমে আসা সালামের জবাব দেওয়া বেশ সহজ: লিখে উত্তর দেওয়া: মেসেজে আসসালামু আলাইকুম এলে আপনি টাইপ করে ওলাইকুম আসসালাম বা পুরো ওলাইকুম আসসালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ লিখে দিতে পারেন। তবে ব্যস্ততার কারণে সঙ্গে সঙ্গে টাইপ করা সম্ভব না হলে, নিজের মুখে স্পষ্ট করে ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম’ বলে নিলেও ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ রদ্দুল মুহতারসহ গ্রহণযোগ্য মত অনুযায়ী উত্তরটি টাইপ করে প্রেরকের কাছে পাঠানো বাধ্যতামূলক নয়; মুখে উচ্চারণ করে উত্তর দিলেও দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে। ডিজিটাল দুনিয়ায় অজান্তেই কোনো সালাম যেন আমাদের অবহেলার শিকার না হয়। প্রযুক্তির ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি ইসলামের সুন্দর আদব ও ঐতিহ্য ধরে রাখাই হোক একজন সচেতন মুমিনের পরিচয়। জা.অর্থনীতি/ ওএফএ
