বিকাশ চন্দ্র ঘোষ: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান অভিঘাত, বিশ্বজুড়ে খাদ্য উৎপাদনের অস্থিরতা আর ভূরাজনৈতিক টানাপড়েনে সার, জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার ধারাবাহিক বিপর্যয়— এই ত্রিমুখী চাপে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও খাদ্যব্যবস্থা এমনিতেই কাহিল। এই ভঙ্গুর প্রেক্ষাপটে যে আশঙ্কা কয়েক মাস আগেও ছিল কেবল সম্ভাবনা তা এখন কঠিন বাস্তব। ‘এল নিনো’ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরে এসেছে এবং দ্রুত শক্তি বাড়াচ্ছে। গত ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডল প্রশাসন (এনওএএ) আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এল নিনো সতর্কতা’ জারি করেছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) পূর্বাভাস বলছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এটি ‘শক্তিশালী’ ঘটনায় রূপ নেবে; মূল পর্যবেক্ষণ অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। এনওএএর হিসাবে, নভেম্বর ২০২৬ থেকে জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে এই তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি পেরিয়ে ‘অতি শক্তিশালী’ তথা ‘সুপার এল নিনো’ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা ৬৩ শতাংশ। ইউরোপীয় সংস্থা ইসিএমডব্লিউএফের কিছু মডেল আবার ডিসেম্বরের মধ্যে ৩ ডিগ্রি বিচ্যুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে— যা ঘটনাটিকে অন্তত ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে তীব্র এল নিনোগুলোর কাতারে নিয়ে যেতে পারে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই এল নিনোকে উষ্ণ হয়ে ওঠা পৃথিবীর জন্য বাড়তি বিপদ আখ্যা দিয়ে একে জরুরি সতর্কবার্তা হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কথাটি অমূলক নয়। আমাদের ঋতুচক্র এমনিতেই ছন্দ হারিয়েছে— অসময়ের বন্যা, তীব্র তাপপ্রবাহ কিংবা দীর্ঘ অনাবৃষ্টি এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা। এই দুর্বল ভিতের ওপর এল নিনোর আঘাত যেন অগ্নিকুণ্ডে ঘি ঢালার শামিল।
এল নিনো কোনো হঠাৎ-আবিষ্কৃত বিষয় নয়। ‘এল নিনো’ শব্দটি স্প্যানিশ, যার অর্থ ‘শিশু খ্রিষ্ট’। পেরুর মৎস্যজীবীরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লক্ষ করে আসছিলেন যে কয়েক বছর অন্তর ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিক উষ্ণ হয়ে ওঠে এবং মাছের স্বাভাবিক গতিবিধি ও আচরণ পরিবর্তিত হয়। বিজ্ঞানীরা পরে এই ঘটনাকে প্রশান্ত মহাসাগরের বিষুবরেখীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার অস্বাভাবিক উষ্ণতা এবং বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের সম্মিলিত ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেন যা ENSO বা El Niño-Southern Oscillation নামে পরিচিত। এল নিনো মূলত স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে বোঝায়। আর যখন তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি বা তারও বেশি বাড়ে তখন তাকে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হয়। একটি সাধারণ এল নিনো ঘটনার তুলনায় এটি কমপক্ষে চার গুণ শক্তিশালী। ইতিহাসে রেকর্ডকৃত পাঁচটি সুপার এল নিনো ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮, ২০১৫-১৬ এবং সর্বশেষ ২০২৩-২৪ সালের ঘটনা। ২০২৩-২৪ সালের এল নিনো ২০২৩ সালের ৪ জুলাই বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়েছিল এবং এটি দক্ষিণ আফ্রিকায় মারাত্মক খরা, ব্রাজিলে ভয়াবহ বন্যা ও ২০২৪ সালের বৈশ্বিক তাপমাত্রা রেকর্ড ভাঙার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে। এল নিনোর প্রভাব মূলত বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার পরিবর্তনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বিস্তার লাভ করে। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর বাণিজ্য-বায়ু (trade winds) পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে উষ্ণ সমুদ্রজলকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম প্রশান্ত অঞ্চলের দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু এল নিনোর সময় এই বায়ুপ্রবাহ দুর্বল হয়ে পড়ে বা কখনও কখনও বিপরীতমুখী হয়ে যায়। ফলে উষ্ণ জলরাশি মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে সরে যায় এবং বৈশ্বিক বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। এর প্রভাব হিসেবে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বর্ষার তীব্রতা কমে যায়, বৃষ্টিপাত হ্রাস পায়, খরার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা পরিলক্ষিত হয়।
এই বৈশ্বিক সংকট আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় উৎপাদন, উভয় দিক থেকেই উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এক অবর্ণনীয় দ্বিমুখী চাপে ফেলে। জেপি মর্গানের (JPMorgan) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সালের এল নিনোর ধাক্কায় ভারত থেকে চাল রপ্তানি নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো বড় উৎপাদক দেশগুলো তীব্র খরায় উৎপাদন সংকটে পড়লে বিশ্ববাজারে চালের দাম আরও বাড়ে যা সরাসরি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশে খাদ্য নিরাপত্তার সংকট তৈরি করে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এল নিনো ক্রান্তীয় অঞ্চলের দেশগুলোর আবহাওয়ার ধারা বিপর্যস্ত করে যা শস্য উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) তথ্য বলছে, দেশের মানুষের মোট ক্যালরি গ্রহণের প্রায় ৭০ শতাংশ আসে চাল থেকে। ফলে চালের উৎপাদন সামান্য কমলেও তা সরাসরি জাতীয় খাদ্য সুরক্ষায় আঘাত হানে এবং গ্রামীণ দারিদ্র্যের চক্রকে আরও গভীর করে। AIUB-র জলবায়ু গবেষণার তথ্যমতে, ১৯৯৭-৯৮ সালের শক্তিশালী এল নিনোর সময় বাংলাদেশে জুন মাসে বৃষ্টিপাতে ৬০ শতাংশ ঘাটতি হয়েছিল এবং বর্ষা প্রায় এক মাস বিলম্বিত হয়েছিল। FAO-র এক বিশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, পরবর্তী লা নিনা বছরের বন্যায় ১০ লাখ হেক্টর ফসলহানির ফলে আউশ ও আমন মিলিয়ে ধান উৎপাদন ১৯৯৬ সালের (একটি স্বাভাবিক বছর) তুলনায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পায় যা দেশকে বিপুল পরিমাণ খাদ্য আমদানির মুখে ঠেলে দেয়। AIUB-র আরেক তথ্যমতে, ২০২৩ সালের এল নিনোতেও বাংলাদেশে বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কোনো কোনো অঞ্চলে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত কম ছিল।
এই বৈশ্বিক সংকটের সমান্তরালে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল—রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ— যা দেশের মূল ‘খাদ্যভাণ্ডার’ হিসেবে পরিচিত, সেটিও এখন এক চরম ঝুঁকির মুখে। এই বরেন্দ্র ট্র্যাক্ট প্রকৃতিগতভাবেই অত্যন্ত খরাপ্রবণ। এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের জাতীয় গড় বৃষ্টিপাত যেখানে ২ হাজার ৫৫০ মিলিমিটার, সেখানে এই অঞ্চলের বার্ষিক বৃষ্টিপাত মাত্র ১ হাজার ৬২৫ মিলিমিটার। এই অঞ্চলের মাটি মূলত শক্ত লাল ও এঁটেল প্রকৃতির, যার পানি ধারণক্ষমতা অত্যন্ত কম। তীব্র গ্রীষ্মে এখানকার বাষ্পীভবনের হার দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে অনেক বেশি যার ফলে স্বাভাবিক সময়েই মাটি দ্রুত আর্দ্রতা হারায়। এই কাঠামোগত খরাপ্রবণতার ওপর এল নিনো যখন আঘাত হানে তখন সংকট বহুগুণ ঘনীভূত হয়ে এক মহাবিপর্যয়ের রূপ নেয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট চাল উৎপাদন ছিল প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ মেট্রিক টন, যার মধ্যে বোরো মৌসুমের অবদানই সবচেয়ে বেশি— প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল দেশের মাত্র ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ ভূমি হলেও, এটি দেশের মোট চাল উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশের বেশি জোগান দেয়। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (BMDA) তথ্য বলছে, ভূগর্ভস্থ সেচের কল্যাণে গত তিন দশকে এই অঞ্চলে বোরো চাষের জমি ১ লাখ ১৬ হাজার হেক্টর থেকে বেড়ে ১৬ লাখ হেক্টরে উন্নীত হয়েছে। তবে এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর পরিবেশগত বিপদ। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (BRRI) হিসাব অনুযায়ী, এক কেজি বোরো ধান উৎপাদনে নিয়ন্ত্রিত সেচ ব্যবস্থায় প্রায় ৫৫০ থেকে ৬৫০ লিটার পানির প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য বলছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ১৯৮০ সালের ৩ দশমিক ৫ মিটার থেকে ২০১৭ সালে ২৫ মিটারে নেমে এসেছে যা গোটা অঞ্চলের জন্য মারাত্মক সংকেত। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে অন্তর্বর্তী সরকার ৬ নভেম্বর ২০২৫-এর গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫টি উপজেলার ৪ হাজার ৯১১ মৌজায় পরবর্তী ১০ বছরের জন্য পানীয় জল ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এল নিনোজনিত দীর্ঘ অনাবৃষ্টিতে ভূগর্ভস্থ স্তর যখন আর ভরাট হবে না, তখন এই নিষেধাজ্ঞা দেশের বৃহত্তম খাদ্যভাণ্ডারটিকেই উৎপাদনের দিক থেকে অচল করে দেওয়ার শঙ্কা তৈরি করতে পারে।
এল নিনো মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে অত্যন্ত দূরদর্শী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে যা বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে। ভারত তাদের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)-এর মাধ্যমে প্রশান্ত মহাসাগরের পরিস্থিতি প্রতি মুহূর্তে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আগাম সতর্কতার ভিত্তিতে খরা মোকাবিলার পরিকল্পনা করছে। ইন্দোনেশিয়া এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট ধান উৎপাদন ঘাটতি মেটাতে ২০২৪ সালে ৩ মিলিয়ন টন চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছিল। ভিয়েতনামের মেকং ডেল্টায় ২০১৬ সালের এল নিনো-বর্ধিত খরায় বসন্তকালীন ধানের উৎপাদন ১৭ শতাংশ কমে গিয়েছিল যার পর তারা আধুনিক সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আবাদের সময়সূচি পরিবর্তনের পথ ধরে। ফিলিপাইন এল নিনো-বিপর্যস্ত কৃষকদের জন্য আর্থিক সহায়তা তহবিল গঠন করেছে; ২০২৪ সালে Rice Farmers Financial Assistance (RFFA) প্রকল্পের আওতায় ১৪ লাখের বেশি কৃষকের মধ্যে প্রায় ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন পেসো বিতরণ করা হয়েছে। এই বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার আলোকে এল নিনোর মতো জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের জরুরি একটি সমন্বিত ও সুনির্দিষ্ট নীতি-কাঠামো বাস্তবায়ন। প্রথমত, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে যুক্ত করে একটি বিশেষ ‘আর্লি ওয়ার্নিং সেল’ গঠন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বরেন্দ্র অঞ্চলে পানি-সাশ্রয়ী সেচ প্রযুক্তি যেমন ড্রিপ ইরিগেশন ও স্প্রিংকলার পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে এবং বোরো ধানের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কম পানিনির্ভর ও উচ্চমূল্যের ফসল চাষে ভর্তুকি প্রদান করতে হবে। তৃতীয়ত, BRRI উদ্ভাবিত খরাসহিষ্ণু জাত যেমন— BRRI ধান-৫৬ ও BRRI ধান-৬৬-সহ স্বল্পমেয়াদি জাতগুলোর বীজ উৎপাদন ও বিতরণ জোরদার করতে হবে, যেন বর্ষার অনিশ্চয়তার আগেই ফসল ঘরে তোলা যায়। চতুর্থত, দেশের অভ্যন্তরীণ গুদামগুলোতে বাফার মজুদ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার দর চড়ার আগেই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় খাদ্য নিরাপত্তা চুক্তি করতে হবে। পঞ্চমত, প্রান্তিক কৃষকদের জন্য আবহাওয়াভিত্তিক শস্য বিমা এবং ফসলহানির ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ নগদ সহায়তা কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। ষষ্ঠত, ডব্লিউএমও, এফএও এবং সিজিআইএআর-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জলবায়ু-অভিযোজন প্রযুক্তি বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রয়োগ করতে হবে।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বাংলাদেশের কৃষি বারবার প্রকৃতির প্রতিকূলতাকে জয় করেই এগিয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭১-৭২ সালে যেখানে দেশের চাল উৎপাদন ছিল প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টন, সেখানে আজ তা ৩ কোটি ৯০ লাখ টন অতিক্রম করেছে। আমাদের বিজ্ঞানী, কৃষিবিদ ও কঠোর পরিশ্রমী কৃষকরা মিলে এক অনন্যসাধারণ সবুজ বিপ্লব ঘটিয়েছেন। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য ২০২৬-২৭ সালের এল নিনো আমাদের এই সাফল্যের ভিত্তিকে এক নজিরবিহীন কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে। প্রশ্নটি এখন আর কেবল কত লাখ টন ধান উৎপাদিত হলো, তা নিয়ে নয়। প্রকৃত প্রশ্ন হলো— যখন প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ জলরাশির সংকেত বরেন্দ্রভূমির মাটিতে তীব্র খরা ও জলসংকটের ভাষায় প্রতিফলিত হচ্ছে, তখন আমাদের নীতিনির্ধারক, কৃষি পরিকল্পনাবিদ এবং খাদ্যব্যবস্থা কি সেই সতর্কবার্তা সময়মতো পড়তে ও তার সম্ভাব্য অভিঘাত মোকাবিলায় কার্যকর প্রস্তুতি নিতে সক্ষম? খাদ্যনিরাপত্তার ভবিষ্যৎ আজ ক্রমেই নির্ভর করছে এই প্রশ্নের উত্তরের ওপর।
সহযোগী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
