নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় অতি ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের (এফএফডব্লিউসি) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, সিলেট ও সুনামগঞ্জের তিনটি নদী স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আরও দুটি স্টেশনের পানি সতর্কসীমায় পৌঁছেছে।
এফএফডব্লিউসি তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জ) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) স্টেশনে পানি রয়েছে বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার এবং মারকুলি (সুনামগঞ্জ) স্টেশনে ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে।
এছাড়া সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
একই সময়ে সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ স্টেশন এবং কুশিয়ারা নদীর শেরপুর স্টেশন সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী এবং তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া, তারাপুর ও হরিপুর স্টেশনও সতর্কসীমায় রয়েছে।
এফএফডব্লিউসির বৃষ্টিপাতের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে সুনামগঞ্জের মহেশখোলায়। এছাড়া সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে ১৪০ মিলিমিটার, সিলেটের জাফলংয়ে ১১৪ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জ সদর এলাকায় ১১০ মিলিমিটার এবং সিলেটে ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের তালিকায় শীর্ষ চারটি স্থানই সিলেট বিভাগের।
এদিকে পঞ্চগড়ে ৯১ মিলিমিটার, নোয়াখালীর বসুরহাটে ৮৫ মিলিমিটার, টেকনাফে ৭৯ মিলিমিটার, রংপুরে ৬১ মিলিমিটার, নীলফামারীর ডালিয়ায় ৫৫ মিলিমিটার, খুলনা ও কক্সবাজারে ৫১ মিলিমিটার এবং কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরীতে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ১২৭টি পানি পরিমাপ স্টেশনের মধ্যে ৭৮টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে, ৪৭টিতে কমছে এবং দুটি স্টেশনে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানি বৃদ্ধির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকায় সিলেট অঞ্চলের নদী অববাহিকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
—জা. অর্থনীতি/এনজে
