অনলাইন ডেস্ক: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। পাশাপাশি ৩১ দফার ভিত্তিতেই রাষ্ট্র সংস্কার হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও নৈশভোজ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও নৈশভোজ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে একে একে যমুনায় যান যুগপৎ আন্দোলনের নেতারা। শরিক দলগুলোর প্রায় দেড়শতাধিক শীর্ষ নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। নির্বাচন ও সরকার গঠনের পর শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়।
মির্জা ফখরুল জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের অবসান ঘটিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী আন্দোলনকারীদের অবদানও জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।

সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, পুরোহিত ও ফাদারদের ভাতা প্রদান, খেলোয়াড়দের ভাতা চালু এবং খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার একটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক কাঠামোর দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে সেগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে স্বাক্ষরিত 'জুলাই সনদ'ও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
তিনি আরও জানান, জাতীয় ঐক্য ধরে রাখা, রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে সমন্বয় জোরদারে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও মতবিনিময় করবেন।

দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নয়
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে জানতে চাইলি বিএনপি মহাসচিব স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এ বিষয়ে দলগুলোর সঙ্গে আমাদের এখনো কোনো আলাপ হয়নি। আপনারা জানেন, আমাদের যে আইন হয়েছে, সেই আইনে কিন্তু দলীয়ভাবে নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই।
আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সুতরাং আমার মনে হয়, সে বিষয়টা আমরা আলোচনা এখন না করলেও পারি। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেব।

নৈশভোজে অংশ নেওয়া মিত্র দলগুলোর প্রশংসা করে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, কারাবরণ করেছেন কিংবা গুম খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের এই অবদান দেশ ও জাতি চিরকাল মনে রাখবে। আগামী দিনেও সব রাজনৈতিক দলকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজ চলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
—জা.অর্থনীতি/আইবিএম
