পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বোদা মডেল পাইলট সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত কৃষি ঋণ মওকুফের সনদপত্র বিতরণ প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হিসেবে তিনি বক্তব্য রাখেন। সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা কারসাজির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পানি সম্পদ তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, বিগত সরকার কৃষকদের নিয়ে চিন্তা করেনি। তারা কেবল ব্যক্তি স্বার্থ নিয়ে চিন্তা করেছে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কৃষক উন্নত হলে দেশের উন্নয়ন হবে এবং কৃষক স্বাবলম্বী হলে দেশও স্বাবলম্বী হবে। বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। কৃষকেরা যাতে নির্বিঘ্নে কৃষিকাজ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তাই সার নিয়ে সংকট সৃষ্টি ও কারসাজি করলে সে যে দলের, ধর্মেরই হোক, এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় বা আপস করা হবে না। তাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দিতে হবে। এ বিষয়ে তিনি জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাদ্য সংকট মোকাবিলায় বহুমাত্রিক কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা চালু করেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৭৮-৭৯ সালে প্রথমবারের মতো ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় স্বল্প সুদে ও বিনা জামানতে কৃষি ঋণ চালু করা হয় এবং ১০০ কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদি কৃষি শস্য উৎপাদন তহবিল গঠন করা হয়। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে কৃষি ঋণ বিতরণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। তার দাবি অনুযায়ী, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কৃষকদের ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খেলাপি কৃষি ঋণ মওকুফ করেন। এছাড়া ২০০১ সালে সরকার গঠনের পর প্রতিটি বাড়িকে ক্ষুদ্র খামার হিসেবে বিবেচনা করে গৃহপালিত পশু, হাঁস-মুরগি ও মৎস্য খাতে বিনা জামানতে কৃষি ঋণ বিতরণ সহজ করা হয়।
জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার আবু সাইম, বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহেমদ রাশেদ উন নবীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বোদা উপজেলার ৫ হাজার ৮৯০ জন কৃষকের ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকার কৃষি ঋণ মওকুফের সনদপত্র বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেক কৃষকের হাতে পাঁচটি করে ফলজ ও বনজ গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। মোট ২৯ হাজার ৪৫০টি চারা বিতরণ করা হয়। এবং অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের অংশগ্রহণে কৃষক আনন্দ মেলার আয়োজন করা হয়। এ সময় বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা ও অন্যান্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
