সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক, বিজিবি-জনতার প্রতিরোধে টিকতে পারছে না বিএসএফ
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: ভারতে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বোবারথল সীমান্ত এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনতার কঠোর প্রতিরোধের মুখে প্রতিবারই ব্যর্থ হয়ে ফিরে যাচ্ছে বিএসএফ।

সরেজমিনে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহের মধ্যে শুক্র, শনি ও রোববার ছিল সবচেয়ে উত্তপ্ত। বোবারথল সীমান্তের ১৩৪৭ থেকে ১৩৫১ নং মেইন পিলার এলাকায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিএসএফ সদস্যরা শূন্যরেখার ওপারে অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশে লোক পাঠানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বিজিবির ৫২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের টহল দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের বাধা দেয়।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বিজিবি জানান, বিএসএফ ১০-১৫ জনের ছোট ছোট গ্রুপ করে রোহিঙ্গা ও অবৈধ ভারতফেরতদের কাঁটাতারের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে সীমান্তবর্তী বোবারথল, দক্ষিণভাগ ও শাহবাজপুর গ্রামের শতাধিক নারী-পুরুষ লাঠিসোটা নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুললে পিছু হটতে বাধ্য হয় বিএসএফ।

টানা এক সপ্তাহ ধরে সীমান্তে এই উত্তেজনা চলায় বোবারথলসহ আশপাশের ৫-৬টি গ্রামের মানুষ এখন চরম আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। বোবারথল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক ও সায়েদা বেগম জানান, রাতের আঁধারে গুলির আওয়াজ ও চিৎকারে শিশুরা ভয়ে কাঁদছে। সীমান্তে কখন কী ঘটে যায়, এই আতঙ্কে তারা ঘুমাতেও পারছেন না।

বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, "বড়লেখা সীমান্তে অবৈধ পুশইন ঠেকাতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে আছি। স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিএসএফের কোনো অপচেষ্টাই সফল হতে দেওয়া হয়নি এবং বাংলাদেশের মাটিতে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।" এই ঘটনায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হান্নান বলেন, শুধু সীমান্তে প্রতিরোধ করলেই হবে না, কূটনৈতিক পর্যায়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কথা বলে এই অমানবিক পুশইন চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

সীমান্ত বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অংশ হিসেবে এই পুশইন তৎপরতা বাড়ানো হলেও, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের কারণে এখন পর্যন্ত বড়লেখা সীমান্ত দিয়ে কেউ অনুপ্রবেশ করতে পারেনি।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি