মিলিমিটারের আক্ষেপ: নকআউটের জন্য দীর্ঘ হলো ইরানের অপেক্ষা
ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক: মিশরকে হারাতে পারলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠার ইতিহাস গড়ত ইরান। কিন্তু ড্র করায় সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি আর ধরা দেয়নি। ১-১ গোলের সমতায় ম্যাচ শেষ হওয়ায় সেরা তৃতীয় দল হিসেবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার জন্য এখন তাদের ভাগ্যের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়তার সবটুকু যেন জমা ছিল ইরানের জন্য। অতিরিক্ত সময়ে গোল করে জয়ের আনন্দে মেতে উঠেছিল ইরান, যা তাদের সরাসরি নকআউটে পৌঁছে দিত। কিন্তু ভিএআর পরীক্ষা শেষে দেখা যায়, শোজা খালিলজাদেহ মাত্র কয়েক মিলিমিটারের জন্য অফসাইড ছিলেন। এরপর সাঈদ ইজাতোলাইয়ের হেড ক্রসবারে লাগলে ইরানের অপেক্ষার পালা আরও দীর্ঘ হয়।

সিয়াটলে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় ইরান। ৫ম মিনিটে মোহামেদ সালাহর আক্রমণ থেকে বল পেয়ে মিশরকে এগিয়ে নেন মাহমুদ সবের। ৯ম মিনিটে পেনাল্টি পেয়ে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় ইরান। কিন্তু দেশটির ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা মেহদি তারেমি গোল করতে ব্যর্থ হন। তার শট রুখে দেন মিশরীয় গোলরক্ষক মোস্তাফা শুবির। তবে তার কিছুক্ষণ পরেই রেজাইয়ানের চতুর এক ট্যাপ-ইনে সমতায় ফেরে ইরান।

গ্রুপ ‘জি’ থেকে বেলজিয়াম ৫-১ গোলে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। মিশর আগে থেকেই নকআউট নিশ্চিত করে রেখেছিল। অন্যদিকে, তিন ম্যাচে তিন ড্রয়ে ৩ পয়েন্ট পাওয়া ইরানকে এখন তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যান্য গ্রুপের ফলাফলের দিকে। সেরা চারজন তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের একটি হতে পারলেই কেবল মিলবে নকআউটের টিকিট।

ম্যাচ শেষে যখন মিশরের খেলোয়াড়রা মাঠেই সিজদাহ দিয়ে শুকরিয়া জানাচ্ছিলেন, ইরানের ফুটবলাররা তখন হতাশায় নুয়ে পড়েন। গ্যালারিতে উপস্থিত ইরানি সমর্থকদের উল্লাস মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয়। এখন পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার জন্য তাদের অপেক্ষা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।

—জা. অর্থনীতি/এআইই