নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যক্তিগত আয়কর ব্যবস্থার কাঠামো ও এতে বিদ্যমান সমতা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, করদাতাদের আয় বৃদ্ধির অনুপাতে করের বোঝা বিশ্লেষণে দেখা যায়, যাদের বার্ষিক করযোগ্য আয় ৬ থেকে ১৫ লাখ টাকা, নতুন বাজেটে তাদের করের দায় ১২ দশমিক ৫ থেকে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। বিপরীতে, ৩০ লাখ টাকার বেশি আয়কারীদের করের দায় বাড়বে মাত্র ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। এটি সামাজিক সমতা ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
রোববার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত 'সিপিডি বাজেট সংলাপ ২০২৬' এসব কথা বলেন ড. ফাহমিদা খাতুন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
আলোচনায় অংশ নেন সংসদ সদস্য আক্তার হোসেন, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ এ রাজ্জাক, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনজীবী মন্টু ঘোষ, পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি এনামুল হক খান।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ফাহমিদা খাতুন বলেন, আগামী ৫ বছরের জন্য ব্যক্তিগত আয়করের যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ২০২৬ থেকে ২০২৮ করবর্ষ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় স্থির রাখা হয়েছে। এরপর ২০২৮ থেকে ২০৩০ করবর্ষের জন্য এই সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কর প্রদানের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে করদাতাদের একটি পরিষ্কার ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে জানিয়ে ফাহমিদা খাতুন বলেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতির উচ্চ হার এই আয়কর কাঠামোর কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশে, যা ২০২৬ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ৬ দশমিক ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেকটা বেশি। মূল্যস্ফীতির এই প্রভাবের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখলে বর্তমান করমুক্ত আয়ের সীমা অন্তত ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা হওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বিদ্যমান কাঠামো বজায় থাকায় স্বল্প আয়ের মানুষেরা করের ক্ষেত্রে কোনো বাস্তব আর্থিক স্বস্তি পাচ্ছেন না।
সিপিডি জানিয়েছে, আয়কর কাঠামোর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে উঠে এসেছে আয়ের ভিত্তিতে করের বোঝার অসামঞ্জস্যতা।
বিভিন্ন আয়ের স্তরে করের বোঝা বৃদ্ধির চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যাদের বার্ষিক করযোগ্য আয় ৫ লাখ টাকা, তাদের ওপর করের বোঝা বাড়ছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। আবার ১০ লাখ ও ১৫ লাখ টাকা বার্ষিক আয়ের মানুষদের ক্ষেত্রে এই করের বোঝা বৃদ্ধির হার ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এর বিপরীতে যারা বছরে ৩০ লাখ টাকার বেশি আয় করেন, তাদের ক্ষেত্রে করের বোঝা বৃদ্ধির হার মাত্র ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
—জা. অর্থনীতি/এনজে
