ভোট গণনার আগে মমতার কঠোর বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার প্রাক্কালে দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং গণনার দিন সতর্ক থাকতে বিশেষ ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেলে কালীঘাট থেকে আয়োজিত এই বৈঠকে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস এবারও ২০০-এর বেশি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে পুনরায় সরকার গঠন করবে। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নিজের প্রবল আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করলেও তিনি দলীয় কাউন্টিং এজেন্টদের কোনো প্রকার ঢিলেঢালা মনোভাব না দেখানোর জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।

গণনাকেন্দ্রে এজেন্টদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নির্দেশ দেন যে, প্রত্যেক এজেন্টকে ফল ঘোষণার দিন অতি প্রত্যুষে নিজ নিজ কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে এবং ফলাফল চূড়ান্ত হওয়ার আগে কোনো অবস্থাতেই কেন্দ্র ত্যাগ করা যাবে না। বিশেষ এক নির্দেশনায় তিনি বলেন, কোনো আসনে যদি দেখা যায় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছে, তবে বিলম্ব না করে তৎক্ষণাৎ ভোট পুনর্গণনার বা রিকাউন্টিংয়ের দাবি তুলতে হবে। অল্প ব্যবধানের আসনগুলো যাতে হাতছাড়া না হয়, সেদিকেই মূলত এই নির্দেশের প্রধান লক্ষ্য।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন বুথফেরত জরিপ বা ‘এক্সিট পোল’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি মনে করেন, এই ধরনের সমীক্ষাগুলো অনেক সময় বাজার ও জনমত প্রভাবিত করার জন্য কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয় এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এর কোনো বড় মিল থাকে না। অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি কর্মীদের এসবে গুরুত্ব না দিয়ে মাঠের লড়াইয়ে মনোযোগী হতে বলেন। একই বৈঠকে তিনি নির্বাচন চলাকালীন যেসব কর্মী ও সমর্থক প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন তাঁদের ত্যাগের প্রশংসা করেন এবং সরকার গঠনের পর তাঁদের উপযুক্ত মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই বৈঠকে এজেন্টদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশল ও কারিগরি দিক তুলে ধরেন। তিনি বিশেষ করে পোস্টাল ব্যালট গণনার ওপর কড়া নজরদারি রাখার নির্দেশ দেন, কারণ এই ভোটগুলো অনেক সময় চূড়ান্ত জয়-পরাজয়ের নির্ণায়ক হয়ে দাঁড়ায়। ইভিএম মেশিনের চার্জ, সিল, তারিখ এবং মেশিনে থাকা তথ্যের সঠিকতা নিবিড়ভাবে যাচাই করার জন্য তিনি এজেন্টদের সতর্ক করেন। অভিষেকের মতে, জয়ী প্রার্থীর আনুষ্ঠানিক সার্টিফিকেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কাউন্টিং সেন্টার ছেড়ে বের হওয়া হবে একটি বড় ভুল, যা কোনোভাবেই করা যাবে না।

রাজ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে একদিকে তৃণমূল যেমন নিজেদের জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত, অন্যদিকে বিজেপিও সরকার গঠনের জোরালো দাবি জানিয়ে আসছে। এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের এমন বিস্তারিত ও কঠোর বার্তা দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জেদ বজায় রাখার একটি বড় প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৪ মে ভোট গণনার দিন প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে উভয় দলের মধ্যে তীব্র স্নায়ুযুদ্ধ চলবে। শেষ মুহূর্তে কর্মীদের এমন সুসংগঠিত করার উদ্যোগ মূলত নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নিজেদের অনুকূলে সুরক্ষিত করার একটি চূড়ান্ত রাজনৈতিক প্রস্তুতি।

জেএ/অভি