ড. মো. শামছুল আলম
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে কী কী থাকা উচিত? শাসনকারী গোষ্ঠীর দায়িত্ব বা কর্তব্যই বা কি! রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তিই বা কী হবে? ক্ষমতার একচ্ছত্র প্রয়োগ, নাকি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ও আস্থাভিত্তিক শাসন? এমন অসংখ্য প্রশ্ন বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বারবার ফিরে এসেছে। কারণ, এর তাত্ত্বিক ভিত্তি এক, কিন্তু বাস্তবিক প্রয়োগ সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। স্বাধীনতার পর থেকেই এদেশের জনগণ একই ধারার রাজনীতি দেখে অভ্যস্ত। বিশেষত, দীর্ঘ দেড় দশকের আওয়ামী শাসনামলে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসে জনগণকেই শোষণের এক কলঙ্কজনক অধ্যায় এ দেশের আপামর জনতা প্রত্যক্ষ করেছে। বিরোধী মতের উপর দমন-পীড়ন ও শোষণ যেন এক নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বদলাচ্ছে শাসনের ভাষা, নেতৃত্বের চরিত্রে আসছে সদগুণ ও মানবিকতা, আর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে আসছে জনগণ। এই পরিবর্তনের ধারায় উদারনৈতিক গণতন্ত্রের বেশকিছু মৌলিক উপাদান দৃশ্যমান হয়ে উঠছে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহুবার উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের মধ্যে একটি কৃত্রিম দ্বন্দ্ব তৈরি করা হয়েছে। যেন উন্নয়ন মানেই কঠোর শাসন, আর গণতন্ত্র মানেই অস্থিতিশীলতা। কিন্তু সাম্প্রতিক নীতিনির্ধারণ ও আচরণে দেখা যাচ্ছে, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার একটি প্রয়াস তৈরি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছেন। এই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেশ ও জনগণ। সবকিছু ও সবার আগে বাংলাদেশ এবং জনগণই তারেক রহমানের শক্তি। এই শক্তির বলেই তারেক রহমান সরকার গঠনের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে দেখিয়েছেন ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস। নির্বাচনের আগে ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছেন। দেখে বোঝার বিন্দুমাত্র উপায় নেই যে, এই সরকারের মেয়াদ মাত্র দুই সপ্তাহ। কৃষিঋণ, ফ্যামিলি কার্ড, বনায়ন ও খাল খনন কর্মসূচি এবং সাধারণ নাগরিকের মতো ছুটে চলা এদেশের আপামর জনতার মনে আশা জুগিয়েছে বলেই আমার বিশ্বাস।
সম্প্রতি নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত একটি সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার এই উদ্যোগে উপকৃত হবেন প্রায় ১২ লাখ কৃষক, যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি খাতের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঋণের চাপ থেকে মুক্ত হয়ে নতুন উদ্যমে উৎপাদনে মনোনিবেশ করতে পারবেন। ঋণ পরিশোধে যে অর্থ ব্যয় হতো, তা এখন তারা উন্নত বীজ, সার কিংবা আধুনিক সেচব্যবস্থায় বিনিয়োগ করতে পারবেন। ফলে উৎপাদন বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষকদের ঋণমান উন্নত হওয়ায় ভবিষ্যতে তারা সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং উচ্চ সুদের মহাজনী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানি নির্ভরতা হ্রাস এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান উদ্যোগটি আরও বিস্তৃত ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা রাষ্ট্রের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথকে সুদৃঢ় করবে।
ফ্যামিলি কার্ড উদ্যোগটি সামাজিক সুরক্ষাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা উদারনৈতিক রাষ্ট্রচিন্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সহায়তা দিতে সরকার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রাথমিকভাবে একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড নির্বাচন করা হবে, যেখানে প্রতিটি পরিবারের একজন নারী এই কার্ডের আওতায় আসবেন। নারীকেন্দ্রিক এই ব্যবস্থাপনা পরিবারে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নকে জোরদার করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১০ মার্চ বগুড়ায় পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।
গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মসূচিতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে টেকসই করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর পাশাপাশি বনায়ন ও সবুজায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে খালগুলোর দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এসব উদ্যোগ প্রমাণ করে, উন্নয়নকে এখন আর শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না; বরং পরিবেশ, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বাইরে রাষ্ট্র পরিচালনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জাতীয় পর্যায়ে সংহতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলা। উদারনৈতিক গণতন্ত্রের মূল শক্তি এখানেই, যেখানে রাজনৈতিক সংস্কৃতি হয় সহনশীল, সংলাপভিত্তিক এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ। বিরোধী দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, মতবিরোধকে শত্রুতা হিসেবে না দেখে গণতান্ত্রিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে গ্রহণ করা এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজা ইত্যাদি এসবই একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চার অপরিহার্য উপাদান। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে যে সংঘাতমুখী প্রবণতা ছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এই ধরনের সংস্কৃতি অত্যন্ত জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতি, সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও বক্তব্য নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে। এর আগে বাংলাদেশ এমনটি দেখেছে কি না জানা নেই। বিশেষ করে নির্বাচনের অল্প সময়ের ব্যবধানে এমন অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ভিন্নধর্মী দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আবার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদকে নিয়ে অধিকাংশ সময়ই সমালোচনায় পড়ে থাকা এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গিয়ে তাদের জন্য শুভকামনা জানানোও একধরনের উদারনৈতিক সংস্কৃতিরই অংশ। মত-দ্বিমত থাকলেও জাতীয় স্বার্থে এক থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। যে বিষয়গুলো একসময় প্রায় অকল্পনীয় ছিল, সেগুলোই এখন ধীরে ধীরে বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে। বলা যায়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও সহনশীলতার এই পরিবর্তনশীল ধারাটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে। বলতে গেলে, এসব সম্ভব হয়েছে জনাব তারেক রহমানের কারণেই।
আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে রাজনৈতিক নেতারা চরম পর্যায়ের এলিট শ্রেণিতে পরিণত হয়। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার সংস্কৃতি এদেশে বহু পুরোনো। তবে তার ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় আমরা বলে থাকি, নেতৃত্বের ব্যক্তিগত আচরণও রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নিয়মিত ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে রাস্তায় চলাচল করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকে প্রটোকল-কড়াকড়ি শিথিল করে রাস্তায় সাধারণ নাগরিকের মতো চলাচল করছেন তিনি। ভিভিআইপি প্রটোকলের বাইরে এসে এমন সাদামাটা জীবনযাপনে ব্যাপক প্রশংসারই যোগ্য। আবার শিশুদের সঙ্গে মেতে উঠছেন আনন্দে। এ যেন অন্য রকম এক নজির। যখন একজন নেতা প্রোটোকলের বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করেন, যানজটে দাঁড়ান, কিংবা শিশুদের সঙ্গে সহজভাবে কথা বলেন, তখন তা কেবল একটি ব্যক্তিগত গুণ নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক অবস্থান। এর মাধ্যমে জনমানসে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায়, রাষ্ট্রক্ষমতা জনগণের উপরে নয়, বরং জনগণের মধ্যেই অবস্থান করে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় কোনো দেশই এককভাবে এগোতে পারে না তাতে সন্দেহ নেই। তাই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা অপরিহার্য। একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী পররাষ্ট্রনীতি দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নকে আরও গতিশীল করে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সার্ক পুনর্গঠনের কথা বলছেন তারেক রহমান। মাইনাস–এক্স ফর্মুলায় ভারত-পাকিস্তান বা অন্য কোনো রাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে নয়, বরং সব সদস্য দেশকে সাথে নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে কাজ করবে তার সরকার। সত্যিকার অর্থেই যদি তারেক রহমানের সরকার সফলভাবে আলোচনার মাধ্যমে সার্ককে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে পারে তবে এতে দেশের অর্থনীতির দুয়ার খুলে যাবে এবং পররাষ্ট্রনীতি হবে আরও শক্তিশালী।
তবে এই পরিবর্তনের ধারাকে স্থায়ী ও কার্যকর করতে কিছু মৌলিক বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি। প্রথমত, আইনের শাসনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান অধিকার ভোগ করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ এগুলোই একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের মূলভিত্তি। তৃতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে সুসংহত ও কার্যকর করে জনগণের আস্থা অটুট রাখতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই পরিবর্তন যেন ব্যক্তি-নির্ভর না থেকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। ইতিহাসের অভিজ্ঞতা বলে, ব্যক্তিনির্ভর উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দর্শন যখন প্রতিষ্ঠান, নীতি ও সংস্কৃতির ভেতরে প্রোথিত হয়, তখন তা স্থায়ী ভিত্তি গড়ে তোলে এবং রাষ্ট্রকে আরও দৃঢ় ও টেকসই পথে এগিয়ে নেয়।
বাংলাদেশ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে। একদিকে অতীতের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। এই প্রেক্ষাপটে উদারনৈতিক গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হওয়া কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে আস্থা, সম্মান ও দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে একটি নতুন সামাজিক চুক্তি নির্মাণের প্রক্রিয়া। নিশ্চয়ই এই পথ সহজ নয়, চ্যালেঞ্জও কম নয়। তবে সংলাপ, সহনশীলতা ও মানবিকতার রাজনীতি যদি ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হয় তাহলে একটি নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে পারে, যেখানে উন্নয়ন হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, রাজনীতি হবে মানবিক এবং রাষ্ট্র সত্যিকার অর্থেই জনগণের হয়ে উঠবে। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃঢ় নেতৃত্ব ও দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে এ দেশ একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে গড়ে উঠবে এটাই দেশের মানুষের প্রত্যাশা।
লেখক: ডিন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ এবং অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
[প্রবন্ধ, নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া ও চিঠিপত্রে প্রকাশিত মতামত, উপস্থাপিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা আইনগতসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের যথার্থতা ও মতামতের দায়িত্ব লেখকের নিজস্ব। এগুলোর সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির সম্পাদকীয় নীতি বা অবস্থানের সর্বদা মিল না-ও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখার বিষয়ে জাতীয় অর্থনীতি কর্তৃপক্ষের অবস্থান নিরপেক্ষ]