Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 04:30 am

বারবার ড্যাপ সংশোধনে বিপন্ন ঢাকার ভবিষ্যৎ

image

সৈয়দ ইকবাল, ঢাকা: আজ ৮ নভেম্বর, বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস। পরিকল্পিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে বিশ্বজুড়ে এ দিবস পালিত হচ্ছে। অথচ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ নগর ঢাকা চলছে উল্টো পথে। রাজধানীকে বাসযোগ্য করতে দেড় দশকের বেশি সময় আগে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) প্রণয়ন করা হলেও তা বাস্তবায়নে জনস্বার্থ ও পরিবেশ সুরক্ষিত থাকছে না। ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন করার লক্ষ্যে বারবার সংশোধন করা হচ্ছে ড্যাপ। 

কোথাও জলাধার ও বন্যাপ্রবাহ অঞ্চলের সুরক্ষা শিথিল করা হচ্ছে, কোথাও বাড়ানো হচ্ছে ভবন নির্মাণের সুযোগ। সর্বশেষ সংশোধনে বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী উন্মুক্ত স্থানকে ‘ভারী শিল্প এলাকা’ হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের অভিযোগ, এসব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনস্বার্থ ও পরিবেশ নয়, আবাসন ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে। ফলে জলাবদ্ধতা, দূষণ ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের সংকটে থাকা ঢাকার দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এবারের বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘পরিকল্পনার মাধ্যমেই গড়ে ওঠে সুন্দর জনপদ: একসঙ্গে এগিয়ে যাই, একসঙ্গে সমৃদ্ধ হই, একসঙ্গে টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ি।’ কিন্তু ঢাকায় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে। আবাসন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চাপে সংকুচিত হচ্ছে খাল, জলাধার, সবুজ এলাকা ও প্রাকৃতিক পরিসর। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক পানি ধারণের জায়গা কমে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে অপরিকল্পিতভাবে ভবন ও শিল্প স্থাপনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় বিদ্যমান নাগরিক অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় না থাকলে রাজধানীকে বাসযোগ্য করে তোলার লক্ষ্য অর্জন আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন ঢাকা মহানগর এলাকার জন্য ২০১০ সালে প্রথম ড্যাপ তৈরি করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা ও যানজট কমানো ও পরিবেশ সংরক্ষণ। সেটি সংশোধন করে ২০২২ সালের আগস্টে ২০১৬-২০৩৫ মেয়াদের নতুন ড্যাপ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এর আগে দুই বছর ধরে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়া হয়। অর্থাৎ পরিকল্পনা প্রণয়নের সময়ই জনমত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সুপারিশ বিবেচনার সুযোগ ছিল। কিন্তু অনুমোদনের কয়েক বছরের মধ্যেই পরিকল্পনার বিভিন্ন বিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

২০২৫ সালের মার্চে ড্যাপ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন নগর পরিকল্পনাবিদেরা। একই বছরের আগস্টে ভবনের আয়তন ও জমির ব্যবহার-সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নতুন বিতর্ক তৈরি করে। ডিসেম্বরে সংশোধন-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর সর্বশেষ গত ১৪ অক্টোবর আবারও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। এসব পরিবর্তনের মধ্যে ভূমির ব্যবহার, ভবনের আয়তন, জলপ্রবাহ অঞ্চল ও পরিবেশগত সুরক্ষা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

আগের ড্যাপ সংশোধন হয়েছিল ১৫৮ বার
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০১০ সালে গেজেট প্রকাশের পর ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রথম ড্যাপ ১৫৮ বার সংশোধন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৪টি সংশোধন করা হয় জলাধার ভরাটের অনুমতি দিতে। বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল ভরাটের অনুমতি দিতে সংশোধন করা হয় আরও ১৪ বার। এছাড়া কৃষি ও গ্রামীণ বসতির শ্রেণি পরিবর্তনে ২০টি এবং ওভারলে জোনের ভূমি ব্যবহারের শ্রেণি পরিবর্তনে ১৩টি সংশোধন আনা হয়।

টিআইবির ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক): সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণায় ড্যাপ বাস্তবায়নের অন্যতম বাধা হিসেবে রাজউকের নিজস্ব কর্মকাণ্ডের অসংগতি চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় উঠে এসেছে, রাজউকের কিছু প্রকল্পের অংশবিশেষ কৃষিজমি, বন্যাপ্রবাহ ও আধা-বন্যাপ্রবাহ অঞ্চলের মধ্যে পড়েছে। ফলে যে সংস্থার দায়িত্ব অন্যদের ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা, তার নিজের প্রকল্পেই পরিকল্পনার সঙ্গে অসংগতি প্রকাশ পেয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে ড্যাপের গেজেট প্রকাশের পর ২০১৯ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত ৯ হাজার ৫৫৬ একর বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল, পানি ধারণের এলাকা ও জলাধারের মধ্যে ৩ হাজার ৪৪০ একর হারিয়ে যায়। অর্থাৎ ওই সময়ে এসব এলাকার প্রায় ৩৬ শতাংশের সমপরিমাণ জায়গা বিলীন হয়েছে।

ঢাকার জলাধার সংকুচিত হওয়ার আরেকটি উদ্বেগজনক চিত্রও উঠে এসেছে গবেষণায়। এতে দেখা যায়, ১৯৯৫ সালে ঢাকার কেন্দ্রীয় এলাকার আয়তনের ২০ দশমিক ৫৭ শতাংশ ছিল জলাধার। ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ২ দশমিক ৯ শতাংশে। অর্থাৎ প্রায় তিন দশকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকার জলাধারের অনুপাত ব্যাপকভাবে কমেছে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, প্রাকৃতিক জলাধার ও বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল কমে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি ধারণ ও নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ভারী বৃষ্টির সময় বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি।

বুড়িগঙ্গার তীরে ভারী শিল্পের অনুমতি
সর্বশেষ গত ১৪ অক্টোবর ড্যাপ সংশোধন করে বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী শ্যামপুর ও কদমতলী থানার আইলবহর মৌজার কিছু জমির ব্যবহার পরিবর্তন করা হয়েছে। সংশোধনী অনুযায়ী, আইলবহর মৌজার মহানগর ১০৪৭, ১০৪৮ ও ১০৫০ দাগের প্রস্তাবিত ভূমি ব্যবহার ‘উন্মুক্ত স্থান’ থেকে পরিবর্তন করে শর্তসাপেক্ষে ‘ভারী শিল্প এলাকা’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

ড্যাপ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরান ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক শিল্প ও গুদাম স্থানান্তরের পথ সুগম করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজউক ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) বক্তব্য অনুযায়ী, পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের অগ্নিঝুঁকি থেকে রক্ষা এবং রাসায়নিক শিল্প স্থানান্তরই এ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য।

তবে নদী তীরবর্তী এলাকায় ভারী শিল্প স্থাপনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন পরিবেশবিদেরা। তাদের আশঙ্কা, শিল্পায়নের আড়ালে বুড়িগঙ্গার দূষণ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নদীর তীর দখলের নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে।

দীর্ঘদিনের দখল ও দূষণে বিপর্যস্ত বুড়িগঙ্গার সুরক্ষা নিশ্চিত না করে তীরবর্তী এলাকায় ভারী শিল্প স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হলে নদীটির পরিবেশ আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তারা। পরিবেশবাদীদের একাংশ সরকারের এ সিদ্ধান্তকে বুড়িগঙ্গার জন্য নতুন বিপর্যয়ের আশঙ্কা হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রশ্ন, পুরান ঢাকার রাসায়নিক শিল্প স্থানান্তর জরুরি হলেও তার জন্য নদীতীরের উন্মুক্ত স্থানকে ভারী শিল্প এলাকা হিসেবে নির্ধারণ কতটা যৌক্তিক।

পূর্বাচল ও ঝিলমিলে ভবনের আয়তন বৃদ্ধিতে উদ্বেগ
ড্যাপে শ্যামপুরে নির্ধারিত উন্মুক্ত স্থানকে ভারী শিল্পাঞ্চল হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ায় এবং পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পে অতিরিক্ত ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) অনুমোদনে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

এফএআর হলো জমির আয়তনের তুলনায় ভবনের মোট মেঝের আয়তনের অনুপাত। এই অনুপাত বাড়ানো হলে একই জমিতে বেশি আয়তনের ভবন নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়। তবে সে অনুযায়ী সড়ক, পানি, পয়োনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার সক্ষমতা না বাড়লে বিদ্যমান অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, একটি এলাকার ভবন নির্মাণের সক্ষমতা নির্ধারণের সময় শুধু জমির পরিমাণ বিবেচনা করলে চলে না। জনঘনত্ব, সড়কের ধারণক্ষমতা, পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, উন্মুক্ত স্থান ও পরিবেশগত সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হয়। এসব বিষয় উপেক্ষা করে ভবনের আয়তন বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হলে পরিকল্পিত আবাসন এলাকাও ভবিষ্যতে অপরিকল্পিত নগরায়ণের সমস্যায় পড়তে পারে।

‘নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে পরিবর্তন’
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. মু. মুসলেহ উদ্দিন হাসান ড্যাপের সর্বশেষ সংশোধন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে ড্যাপের গেজেট প্রকাশের পর একাধিক পর্যায়ের পর্যালোচনা ও সংশোধনের মাধ্যমে পরিকল্পনাটি একটি স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছেছিল। কিন্তু ১৪ অক্টোবরের গেজেটে বেশ কিছু আকস্মিক ও অস্বাভাবিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী এলাকার ভূমি ব্যবহার পরিবর্তনের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, এসব পরিবর্তন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে করা হয়েছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খানও ড্যাপ সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘পরিকল্পনা ফ্যাসিবাদ’ বলা যায়। দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যবসায়ী ও শিল্পগোষ্ঠী জনস্বার্থের চেয়ে নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি সমর্থন ও বৈধতার সুযোগ নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো নগরের ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে নাগরিকদের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্তু পরিকল্পনা অনুমোদনের পর বারবার বিশেষ স্বার্থে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হলে পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্যই বাধাগ্রস্ত হয়।

বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতা বড় বাধা
ঢাকার নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সমস্যা বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। রাজউক ভূমির ব্যবহার ও উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ করে। সিটি করপোরেশনগুলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নালা ও অন্যান্য নাগরিক সেবার দায়িত্ব পালন করে। ঢাকা ওয়াসা পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশনের কাজে যুক্ত। অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং নদী ও জলপথ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলোরও পৃথক দায়িত্ব রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব সংস্থার কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালিত না হলে একটি এলাকার উন্নয়ন অন্য এলাকার জন্য সংকট তৈরি করতে পারে। যেমন- নিচু জমি বা জলাভূমি ভরাট করে আবাসন ও শিল্প স্থাপন করা হলে আশপাশের এলাকার পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন জনবসতির জন্য প্রয়োজনীয় সড়ক, পানি, বিদ্যুৎ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চাপ বাড়ে।

ড্যাপ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিকল্পনায় নির্ধারিত ভূমি ব্যবহারের সঙ্গে জমির বাজারমূল্য, আবাসনের চাহিদা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সংঘাতও বড় চ্যালেঞ্জ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারি সংস্থাগুলোর নিজস্ব উন্নয়ন প্রকল্প এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিভক্ত থাকার সমস্যা।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ড্যাপকে কার্যকর করতে হলে ভূমির ব্যবহার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। জলাধার, বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে সংশোধনের আগে পরিবেশগত প্রভাব, নাগরিক সুবিধার সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি নগর উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করা জরুরি।

বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবসে তাই ঢাকার সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে রাজধানীর উন্নয়ন হবে, নাকি বিভিন্ন স্বার্থের চাপে বারবার পরিকল্পনা বদলে নগরের অবশিষ্ট প্রাকৃতিক পরিবেশও ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা, পরিবেশ সুরক্ষা ও বাস্তবায়নে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা না গেলে ঢাকাকে বাসযোগ্য করে তোলার লক্ষ্য আরও কঠিন হয়ে পড়বে।